ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ নিয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে এবং স্থানে সম্মেলন করে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের সিদ্ধান্তে এ সংগঠনটির জন্ম হয়। বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এ সংগঠনটির ভূমিকা ব্যাপক।
- ক)(1)
ভেটো অর্থ কী?
- খ)(2)
মার্শাল পরিকল্পনা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ভেটো' (Veto) একটি লাতিন শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ 'আমি মানি না' বা 'আমি এটি প্রত্যাখ্যান করছি'। এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্রের যেকোনো সিদ্ধান্ত বাতিলের বিশেষ ক্ষমতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সেখানে কমিউনিজমের বিস্তার রোধ করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল ১৯৪৭ সালে যে বিশদ অর্থনৈতিক সাহায্য কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তাকে 'মার্শাল পরিকল্পনা' (Marshall Plan) বলা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপের দেশসমূহকে বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'জাতিসংঘ' (United Nations)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবর্ণনীয় ধ্বংসলীলা ও পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ গঠিত হয়। ওয়াশিংটন সম্মেলন, ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন এবং সর্বশেষে ১৯৪৫ সালের সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ৫০টি দেশের প্রতিনিধির স্বাক্ষরে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে ঠিক এভাবেই বিভিন্ন সম্মেলনে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষার তাগিদে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের পটভূমির সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত আন্তর্জাতিক সংগঠনটি হলো 'জাতিসংঘ'। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রক্রিয়ায় এবং পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘে সদস্যপদ ও বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবিক সহায়তা ও বিশ্বজনমত গঠন: ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ বিশ্বজনমত গঠনে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছিল। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) ভারতে আশ্রয় নেওয়া এক কোটি বাঙালি শরণার্থীর জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার ত্রাণসহায়তা পরিচালনা করে।
২. নিরাপত্তা পরিষদে বিতর্ক ও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব রোধ: মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তোলে, যা কার্যকর হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিলম্বিত হতো। তবে বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে তিনবার 'ভেটো' প্রয়োগ করে যুদ্ধবিরতি ঠেকিয়ে দেয়, ফলে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী দ্রুত চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়।
৩. স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি ও সদস্যপদ লাভ: স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে। শুরুতে পাকিস্তানের মিত্র চীনের ভেটো প্রয়োগের কারণে সদস্যপদ আটকে যায়। তবে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
৪. বিশ্বমঞ্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ: সদস্যপদ লাভের পর ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়ে বিশ্বের দরবারে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
পরিশেষে, জাতিসংঘের সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমেই স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বৈধতা ও সার্বজনীন স্বীকৃতি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও