সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
ললিতা রায় ও নুরজাহান দানশীল, পরোপকারী হিসেবে পরিচিত। ললিতা রায় পাপ মুক্তির আশায় মন্দির ও অনাথ আশ্রমে সম্পদ দান করেন আর নুরজাহান তার সম্পদের একটি অংশ মসজিদ মাদ্রাসায় দান করেন। এ দানের মাধ্যমে দুজনে মানসিক তৃপ্তিতে আছেন।
- ক)(1)
সমাজ সংস্কার কী?
- খ)(2)
সামাজিক নিরাপত্তার ধারণা দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ললিতা রায়ের দান সমাজকর্মের সাথে সম্পর্কিত কোন প্রত্যয় কে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ললিতা রায় ও নুরজাহানের দান মানব কল্যাণে অবদান রাখছে - সংশ্লিষ্ট প্রত্যয় এর আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজের প্রচলিত ক্ষতিকর কুপ্রথা, অন্ধবিশ্বাস, অনিয়ম ও অন্যায্য রীতিনীতি দূর করে সমাজকে প্রগতিশীল ও কল্যাণমুখী ধারায় রূপান্তর করার সচেতন প্রয়াসকে সমাজ সংস্কার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিরাপত্তা হলো রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক গৃহীত এমন কতগুলো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা, যা অসুস্থতা, বার্ধক্য, বেকারত্ব, পঙ্গুত্ব, দুর্ঘটনা বা পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তা বা চরম অভাব থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করে। এটি মূলত সামাজিক বীমা, সামাজিক সাহায্য এবং সামাজিক সেবার সমন্বিত রূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ললিতা রায়ের দান সমাজকর্মের ঐতিহ্যগত প্রত্যয় 'দানশীলতা' (Charity) বা হিন্দুধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে 'দেবোত্তর' / 'ধর্মগোলা'-র সাথে সংশ্লিষ্ট পুণ্যার্জনের দানকে ইঙ্গিত করে।
ধর্মীয় বিশ্বাস, পরোপকার বা আত্মতৃপ্তি থেকে অভাবগ্রস্ত বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছায় অর্থ বা সম্পদ দান করাকে দানশীলতা বলে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মে অসহায়দের সাহায্যার্থে বা পুণ্য অর্জনের আশায় দান করার রেওয়াজ চলে আসছে।
উদ্দীপকে ললিতা রায় পাপ মুক্তির আশায় এবং পরোপকারের তাগিদে মন্দির ও অনাথ আশ্রমে সম্পদ দান করেছেন। তাঁর এই দান নিঃস্বার্থভাবে ধর্মীয় অনুভূতি ও কল্যাণকামিতা থেকে উদ্ভূত। সমাজকল্যাণের বিবর্তনের ইতিহাসে এটি সনাতন 'দানশীলতা' বা ধর্মীয় কল্যাণমূলক দানের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ললিতা রায় ও নুরজাহানের দান যথাক্রমে 'দানশীলতা' এবং ইসলামী কল্যাণ প্রত্যয় 'ওয়াকফ' বা 'সদকা'-কে নির্দেশ করে। উভয়ের এ ধরনের দান মানবকল্যাণে অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখছে—উক্তিটি যথার্থ।
১. অসহায় ও এতিমদের কল্যাণ: ললিতা রায় অনাথ আশ্রমে দান করার ফলে পিতৃহীন ও আশ্রয়হীন শিশুরা অন্ন, বস্ত্র ও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
২. শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন: নুরজাহান মসজিদ ও মাদ্রাসায় সম্পদ দান করেছেন, যা ইসলামী পরিভাষায় 'ওয়াকফ' বা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্রের বিকাশ ঘটে এবং সমাজের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
৩. বৈষম্য হ্রাস ও মানসিক তৃপ্তি: উভয় ব্যক্তির দান সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে এবং সম্পদের সামাজিক পুনর্বণ্টনে ভূমিকা রাখে। একই সাথে এটি মানুষের মধ্যে সহানুভূতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।সুতরাং, ললিতা রায় ও নুরজাহানের ধর্মীয় অনুশাসন ও মানবপ্রেম থেকে উৎসারিত দানশীলতা সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও