অর্থনীতি ২য় পত্র • মুদ্রাস্ফীতি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

"X" দেশে ২০১৮ সালে চাল, আলু, লবণ তেল এর কেজি প্রতি দাম ছিল যথাক্রমে ৪০, ১৫, ১০, ১০০ টাকা। ২০২০ সালে যার দাম দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৫, ২০, ১৫, ১৫০ টাকা। দাম বাড়ায় সরকার ব্যাংক হার পরিবর্তন, নগদ রিজার্ভের অনুপাতের পরিবর্তনসহ ঋণ নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  1. ক)

    অর্থের মূল্য কি?

    (1)
  2. খ)

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক হতে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থের ক্রয়ক্ষমতাকে অর্থের মূল্য বলে; অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করা যায়, তাকে অর্থের মূল্য বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সামগ্রিক উৎপাদন ও সরবরাহ হ্রাস পাওয়ার ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

    বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বাজারে উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ বা জোগান আকস্মিকভাবে কমে যায়। কিন্তু চাহিদা অপরিবর্তিত বা স্বাভাবিক থাকায় সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক জোগানের ঘাটতি দেখা দেয়। চাহিদার তুলনায় জোগানের এই ঘাটতির কারণে জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, যা খরচ-বৃদ্ধি বা জোগানজনিত মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক হতে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়:

    এখানে ভিত্তি বছর ২০১৮ এবং চলতি বছর ২০২০।
    ২০১৮ সালে চাল, আলু, লবণ ও তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ৪০, ১৫, ১০ ও ১০০ টাকা।
    অতএব, ভিত্তি বছরের মোট দাম (∑P0\sum P_0) = ৪০ + ১৫ + ১০ + ১০০ = ১৬৫ টাকা।

    ২০২০ সালে এই দ্রব্যগুলোর দাম হয় যথাক্রমে ৪৫, ২০, ১৫ ও ১৫০ টাকা।
    অতএব, চলতি বছরের মোট দাম (∑P1\sum P_1) = ৪৫ + ২০ + ১৫ + ১৫০ = ২৩০ টাকা।

    ভিত্তি বছরের দাম সূচক (CPI0CPI_0) = ১০০
    চলতি বছরের দাম সূচক (CPI1CPI_1) = ∑P1∑P0×১০০\frac{\sum P_1}{\sum P_0} \times ১০০
    = ২৩০১৬৫×১০০≈১৩৯.৩৯\frac{২৩০}{১৬৫} \times ১০০ \approx ১৩৯.৩৯

    মুদ্রাস্ফীতির হার (Inflation RateInflation\ Rate) = CPI1−CPI0CPI0×১০০\frac{CPI_1 - CPI_0}{CPI_0} \times ১০০
    = ১৩৯.৩৯−১০০১০০×১০০=৩৯.৩৯%\frac{১৩৯.৩৯ - ১০০}{১০০} \times ১০০ = ৩৯.৩৯\%

    সুতরাং, উদ্দীপক অনুযায়ী 'X' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার হলো ৩৯.৩৯%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগী।

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে আর্থিক নীতি (Monetary Policy) প্রয়োগ করে, তার মধ্যে ব্যাংক হার বৃদ্ধি, নগদ জমার অনুপাত (CRR) বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গুণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে অর্থের সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা হ্রাস করা।

    উদ্দীপকে 'X' দেশে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার পরিবর্তন, নগদ রিজার্ভের অনুপাত পরিবর্তন এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণের মতো সংকোচনমূলক আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    ব্যাংক হার বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হয় এবং তারা জনগণের জন্য সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ঋণের চাহিদা কমে যায়। একইভাবে নগদ রিজার্ভের অনুপাত বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা সরাসরি হ্রাস পায়। সামগ্রিকভাবে ঋণের প্রবাহ সীমিত হওয়ায় বাজারে নগদ অর্থের জোগান কমে যায়, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে দেয়। চাহিদা হ্রাসের কারণে দ্রব্যের দাম কমে এবং মূল্যস্তর স্থিতিশীল হয়।

    অতএব, বর্ধিত মূল্যস্তরকে লাগাম টেনে ধরে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্দীপকে উল্লিখিত সংকোচনমূলক আর্থিক নীতি গ্রহণ সম্পূর্ণ যথার্থ হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন