ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
আল-কুরআনে সব সমস্যার সমাধান রয়েছে। ‘এই গ্রন্থ মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক'। কিছু লোক সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা ভালো কথা শুনেও না শোনার ভান করে যেন তাদের অন্তরে শ্রবণযন্ত্রে সিল করা হয়েছে। অপর একটি দল আছে যারা মুমিনদের সাথে একরকম কথা বলে আর তাদের অসৎ বন্ধুদের সাথে অন্যরকম কথা বলে ।
- ক)(1)
الْكِتَابُ (আল-কিতাব) অর্থ কী?
- খ)(2)
‘আল-কুরআন মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক।'- ব্যাখ্যা কর
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম দলের ব্যক্তি কারা? তাদের আলামতগুলো বর্ণনা কর ।
- ঘ)(4)
অপর দলের ব্যক্তিদের আচরণে মানবজীবনে কীরূপ প্রভাব পড়ে? বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
الْكِتَابُ (আল-কিতাব) অর্থ গ্রন্থ বা বই।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, এটি মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং অসৎ কাজ থেকে বেঁচে থাকে, তাদের মুত্তাকি বলা হয়। মুত্তাকিগণ সত্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত হৃদয়ের অধিকারী হন এবং কুরআনের প্রদর্শিত সঠিক ও সরল পথ অনুসরণের মানসিকতা রাখেন। ফলে কুরআন তাদের জীবনযাত্রায় ন্যায়, সততা ও সফলতার সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ করে। যাদের অন্তরে তাকওয়া নেই, তারা কুরআনের নির্দেশনা থেকে উপকৃত হতে পারে না; তাই কুরআনকে বিশেষভাবে 'মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক' বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম দলের ব্যক্তিরা হলো 'কাফির' বা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী।
সূরা আল-বাকারার ৬ ও ৭ নম্বর আয়াতে তাদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, "নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে, আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান, তারা ঈমান আনবে না। আল্লাহ তাদের অন্তরে ও তাদের কানে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর রয়েছে পর্দা।"
তাদের প্রধান আলামত বা বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. অন্ধ অহংকার ও সত্যবিমুখতা: তারা সত্য কথা ও উপদেশ শুনেও সত্যকে গ্রহণ করে না এবং না শোনার ভান করে।
২. অন্তরের মোহরাঙ্কিত অবস্থা: তাদের অন্তরে ও শ্রবণযন্ত্রে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে, ফলে কোনো শুভ উপদেশ তাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে না।
৩. অবাধ্যতা ও একগুঁয়েমি: সত্যের স্পষ্ট প্রমাণ দেখার পরও তারা নিজেদের কুফরি ও ভ্রান্ত মতবাদের ওপর অটল থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত অপর দলের ব্যক্তিরা হলো 'মুনাফিক'। তাদের দ্বিচারিতামূলক আচরণ মানবজীবনে এবং সামগ্রিক সমাজে মারাত্মক ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে।
মুনাফিকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা মুমিনদের সামনে এসে বলে, "আমরা ঈমান এনেছি", কিন্তু গোপনে তাদের অসৎ ও কুচক্রী বন্ধুদের সাথে মিলিত হয়ে বলে, "আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, আমরা কেবল তাদের সাথে উপহাস করছি"। তাদের এই আচরণে মানবজীবনে যেসব প্রভাব পড়ে:
১. পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সংকট: মুনাফিকরা দ্বিমুখী আচরণ করার ফলে মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট হয়। সমাজে একে অপরের প্রতি সন্দেহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
২. ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট: মুনাফিকরা ভেতর থেকে সমাজে ফাটল সৃষ্টি করে। তারা বাহ্যিকভাবে বন্ধু সেজে গোপনে শত্রুর সাথে আঁতাত করে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, যা সামাজিক ঐক্যকে বিনষ্ট করে।
৩. নৈতিক অবক্ষয়: মিথ্যাচার, ধোঁকাবাজি এবং বিশ্বাসভঙ্গ মুনাফিকদের প্রধান কাজ হওয়ায় সমাজে অসততা ও নৈতিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে।
৪. পরকালীন ধ্বংস: মুনাফিকদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, মুনাফিকদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।সুতরাং, মুনাফিকদের এই সুবিধাবাদী ও দ্বিচারী আচরণ সমাজ ও মানবজীবনকে চরম বিপর্যয় ও অশান্তির দিকে ঠেলে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও