‍ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে রবিন একজন বর্ষীয়ান অধ্যাপকের সাথে পরিচিত হয়। তাঁর নাম মি. স্মিথ। তিনি রবিনকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি দেশের সরকার বিভিন্নভাবে সমর্থন যুগিয়েছিল তার একটি তথ্যবহুল বর্ণনা দেন। এ যুদ্ধে সে দেশের সংবাদপত্রের ব্যাপক ভূমিকার কথাও তিনি রবিনকে বলেন।

  1. ক)

    বর্ধমান হাউসের বর্তমান নাম কি?

    (1)
  2. খ)

    স্বদেশি আন্দোলন কী?

    (2)
  3. গ)

    উক্ত অধ্যাপকের দেওয়া তথ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ব্যতীত কোন বৃহৎ রাষ্ট্রের অবদান ফুটে উঠেছে?

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত বৃহৎ রাষ্ট্রটির অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্ধমান হাউসের বর্তমান নাম বাংলা একাডেমি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশদের অন্যায্য বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে বিদেশি পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর যে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে স্বদেশি আন্দোলন বলে।

    এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয়দের নিজস্ব শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করা এবং বিদেশি ব্রিটিশ পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ভিতকে দুর্বল করে দেওয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত অধ্যাপকের দেওয়া তথ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্র (ভারত) ব্যতীত পরাশক্তি হিসেবে ‘যুক্তরাজ্য’-এর (ব্রিটেন) গুরুত্বপূর্ণ অবদান ফুটে উঠেছে।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারত ছাড়া অন্যান্য বৃহৎ শক্তির মধ্যে যুক্তরাজ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানবিক এবং রাজনৈতিক সমর্থন জুগিয়েছিল। সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ব্রিটিশ মিডিয়া বা গণমাধ্যমের। বিবিসি, দ্য টাইমস, দ্য সানডে টাইমস প্রভৃতি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা (যেমন- সাইমন ড্রিং, মার্ক টালি) ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যার নির্মম চিত্র সারা বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেন।

    উদ্দীপকে অধ্যাপক মি. স্মিথ রবিনকে জানান যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একটি দেশের সরকার বিভিন্নভাবে সমর্থন যুগিয়েছিল এবং সে দেশের সংবাদপত্রের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা তহবিল সংগ্রহ করেন এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে। অতএব, উদ্দীপকে নির্দেশিত বৃহৎ রাষ্ট্রটি হলো যুক্তরাজ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তি হিসেবে যুক্তরাজ্যের অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। নিচে এর মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো:

    ১. বিশ্ব জনমত গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা: যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম, বিশেষ করে বিবিসি (BBC) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় গণহত্যা ও নির্মম অত্যাচারের খবর সাহসিকতার সাথে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। সাইমন ড্রিংয়ের মতো ব্রিটিশ সাংবাদিকদের পাঠানো প্রতিবেদনের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতের বর্বরোচিত ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে। এর ফলে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিশ্বজনমত বাংলাদেশের স্বপক্ষে চলে আসে।

    ২. ব্রিটিশ সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান: ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন সময়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ না নিলেও পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক হয়। অনেক ব্রিটিশ এমপি বাংলাদেশ সফরের চেষ্টা করেন ও শরণার্থীদের দুর্দশার চিত্র স্বচক্ষে দেখে সহায়তা প্রদানের দাবি তোলেন। ব্রিটিশ সরকার পাকিস্তান সরকারকে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং উদ্বাস্তু শরণার্থীদের জন্য বড় অংকের মানবিক ত্রাণসহায়তা পাঠায়।

    ৩. প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠিত আন্দোলন: যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত লক্ষাধিক প্রবাসী বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। তারা 'বাংলাদেশ অ্যাকশন কমিটি' গঠন করে আন্তর্জাতিক মহলে তহবিল সংগ্রহ করেন এবং সেই অর্থ মুজিবনগর সরকারের নিকট প্রেরণ করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র ও রসদ সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়।

    ৪. আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি ও সংহতি: ব্রিটিশ মাটিতেই জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের যৌথ উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহের প্রস্তুতি ও বিশ্বমঞ্চে মানবিক আবেদন গড়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, প্রত্যক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ না করলেও বিশ্ব জনমত সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক প্রচার এবং শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য, যা বাংলাদেশের বিজয় ত্বরান্বিত করতে অসামান্য অবদান রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন