সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

R তিন বছরের শিশু। তাকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয়। না। সে একই কাজ বার বার করে এবং চোখে চোখ রেখে তাকায় না। সে একাকী থাকতে পছন্দ করে।

  1. ক)

    বাল্যবিবাহ কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    R-এর আচরণে কোন সামাজিক সমস্যার প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সমাজজীবনে উক্ত সমস্যার প্রভাব বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন দ্বারা নির্ধারিত বিয়ের বয়সসীমার (বাংলাদেশে মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর) নিচে কোনো ব্যক্তির বিবাহ সম্পন্ন হওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক সমস্যার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সার্বজনীন ও ক্ষতিকর প্রভাব।

    সামাজিক সমস্যা কোনো একক ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যা সমাজের বৃহত্তর অংশকে প্রভাবিত করে এবং সমাজের স্বাভাবিক ভারসাম্য ও অগ্রগতিকে ব্যাহত করে। এই ক্ষতিকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সমাজবদ্ধ মানুষের যৌথ প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে R-এর আচরণে 'অটিজম' (Autism Spectrum Disorder) নামক বিকাশজনিত সমস্যার প্রকাশ ঘটেছে।

    অটিজমে আক্রান্ত শিশুর স্নায়ুবিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক শিশুদের মতো হয় না। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো—সামাজিক যোগাযোগে অনীহা, চোখে চোখ না রাখা (eye contact এড়ানো), একাকী থাকার প্রবণতা, নাম ধরে ডাকলেও সাড়া না দেওয়া এবং একই আচরণের পুনরাবৃত্তি করা।

    উদ্দীপকে তিন বছর বয়সী শিশু R-কে নাম ধরে ডাকলে সে সাড়া দেয় না, চোখে চোখ রেখে তাকায় না, একাকী থাকতে ভালোবাসে এবং একই কাজ বারবার করে। এই উপসর্গগুলো স্পষ্টভাবে অটিজমের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অটিজম সমস্যা কেবল ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সমাজজীবনেও এর বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

    প্রথমত, পরিবার সমাজজীবনের মূল ভিত্তি। একটি পরিবারে অটিস্টিক শিশু থাকলে পুরো পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সমাজের সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে এসব পরিবারকে অনেক সময় সামাজিক অপবাদ ও বিচ্ছিন্নতার সম্মুখীন হতে হয়।

    দ্বিতীয়ত, অটিজমের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত থেরাপি, শিক্ষা ও যত্নের প্রয়োজন হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর ফলে পরিবারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।

    তৃতীয়ত, উপযুক্ত পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় সমাজে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী অনুৎপাদনশীল বা নির্ভরশীল রয়ে যায়, যা জাতীয় উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।

    তবে যথাযথ সচেতনতা, বিশেষ শিক্ষা, থেরাপি এবং ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারলে অটিস্টিক ব্যক্তিদের বিশেষ প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে সমাজের সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। সার্বিকভাবে অটিজম মোকাবিলায় সামাজিক দায়িত্বশীলতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন