সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সামাজিক অসমতা কী?

    (1)
  2. খ)

    "সকল বিচ্যুতি অপরাধ নয় কিন্তু সকল অপরাধই বিচ্যুতি” বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    ছকের '?' চিহ্নিতস্থানে সমাজতাত্ত্বিক কোন প্রত্যয়টি নির্দেশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রত্যয়টির যেকোনো একটি ধরন উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্পদ, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদার অসম বণ্টনের ফলে সমাজে যে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়, তাকে সামাজিক অসমতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রত্যাশিত আচরণের পরিপন্থী যেকোনো আচরণই হলো বিচ্যুতিমূলক আচরণ। অন্যদিকে, বিচ্যুতিমূলক আচরণের যে অংশটি প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য, তাকে অপরাধ বলা হয়।

    সুতরাং, কোনো আচরণ সমাজের রীতিনীতির বিরুদ্ধে গেলে তা বিচ্যুতি হলেও যদি তা আইন ভঙ্গ না করে তবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না (যেমন—গুরুজনকে অসম্মান করা বা মিথ্যা বলা)। কিন্তু প্রতিটি অপরাধই প্রচলিত সামাজিক মানদণ্ড বা আইনকে লঙ্ঘন করে বলে তা অবশ্যই বিচ্যুতিমূলক আচরণের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই বলা হয়—"সকল বিচ্যুতি অপরাধ নয় কিন্তু সকল অপরাধই বিচ্যুতি"।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজতাত্ত্বিক 'সামাজিক স্তরবিন্যাস' (Social Stratification) প্রত্যয়টি নির্দেশিত হয়েছে।

    স্তরবিন্যাস হলো এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে একটি সমাজের ব্যক্তিবর্গকে সম্পদ, ক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদার ভিত্তিতে উচ্চ-নীচ বা বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী টি. বি. বটমোর (T.B. Bottomore) তাঁর 'Sociology: A Guide to Problems and Literature' গ্রন্থে সামাজিক স্তরবিন্যাসের চারটি প্রধান ঐতিহাসিক ধরন বা রূপের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো: দাসপ্রথা (Slavery), এস্টেট প্রথা (Estates), জাতিবর্ণ প্রথা (Caste) এবং সামাজিক শ্রেণি ও পদমর্যাদা গোষ্ঠী (Class and Status group)। উদ্দীপকের ছকে এই চারটি প্রধান রূপেরই উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে 'সামাজিক স্তরবিন্যাস' নির্দেশিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্যয়টি হলো 'সামাজিক স্তরবিন্যাস'। নিচে এর অন্যতম প্রধান একটি ধরন হিসেবে 'জাতিবর্ণ প্রথা' (Caste System) বিশ্লেষণ করা হলো:

    জাতিবর্ণ প্রথা হলো সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি অনমনীয় এবং বন্ধ রূপ (Closed Stratification)। এটি মূলত সনাতন হিন্দু সমাজে ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান ছিল। এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো জন্ম। মানুষ যে জাতিবর্ণে জন্মায়, আজীবন তাকে সেই বর্ণের সদস্য হিসেবেই থাকতে হয়; ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা চেষ্টার মাধ্যমে এর পরিবর্তন সম্ভব নয়।

    জাতিবর্ণ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:
    ১. অর্জিত নয়, আরোপিত মর্যাদা: জন্মসূত্রে একজন ব্যক্তির মর্যাদা ও বর্ণ নির্ধারিত হয়।
    ২. অন্তঃগোত্রীয় বিবাহ (Endogamy): এই প্রথায় একই জাতিবর্ণের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন বাধ্যতামূলক, অন্য বর্ণের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ।
    ৩. বংশানুক্রমিক পেশা: প্রতিটি জাতিবর্ণের নির্দিষ্ট ও বংশানুক্রমিক পেশা থাকে (যেমন—ব্রাহ্মণদের পূজা-অর্চনা বা শিক্ষাদান, শুদ্রদের সেবা প্রদান)।
    ৪. শ্রেণিবিন্যাস: সনাতন ভারতীয় সমাজে এর অধীনে প্রধানত চারটি বর্ণ দেখা যায়—ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র।
    ৫. বিধিনিষেধ: খাদ্যগ্রহণ, সামাজিক মেলামেশা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ বজায় থাকে।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক স্তরবিন্যাসের অন্যতম রূপ হিসেবে জাতিবর্ণ প্রথা সমাজকে কঠোরভাবে বিভক্ত ও গতিহীন করে রাখার একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন