‍ইতিহাস ২য় পত্র • স্নায়ুযুদ্ধ : পুঁজিবাধ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

যমুনা নদীর তীরবর্তী সালেমপুর ও মকসুদপুর দুটি ভিন্ন অঞ্চল। সালেমপুরের মাতব্বর চরের জমিকে ব্যক্তি মালিকানায় রাখতে চান। অথচ মকসুদপুর গ্রামের মাতব্বর চান সমবায় খামারের মাধমে চর শাসন করতে। এরূপ অবস্থায় সালেমপুরের মাতব্বর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে একটি জোট গঠন করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে | মকসুদপুরের মাতব্বরের নেতৃত্বে অনুরূপ জোট গঠন করে। এতে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ সংঘটিত হয় নি।

  1. ক)

    গ্লাসনস্ত নীতির প্রবক্তা কে?

    (1)
  2. খ)

    বার্লিন অবরোধ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থাটির সাদৃশ্য তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত অবস্থাটি কি বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্লাসনস্ত নীতির প্রবক্তা হলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির বার্লিন শহরকে কেন্দ্র করে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক আরোপিত নৌ, রেল ও সড়ক অবরোধই 'বার্লিন অবরোধ' নামে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স তাদের অধিকৃত পশ্চিম জার্মানি ও পশ্চিম বার্লিনকে একত্রিত করে নতুন মুদ্রা চালু করলে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৪৮ সালের জুনে পশ্চিম বার্লিনের সমস্ত স্থলপথ ও জলপথ অবরুদ্ধ করে খাদ্য ও রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেন, যা ১৯৪৯ সালের মে পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সালেমপুর ও মকসুদপুরের মাতব্বরের মধ্যকার আদর্শগত দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি জোট গঠন এবং প্রত্যক্ষ যুদ্ধ ছাড়াই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সাথে পাঠ্যবইয়ের 'স্নায়ুযুদ্ধ' বা 'ঠান্ডা লড়াই' (Cold War)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বরাজনীতিতে দুই পরাশক্তি—পুঁজিবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের আবির্ভাব ঘটে। উদ্দীপকে সালেমপুরের মাতব্বর ব্যক্তিগত মালিকানার পক্ষে অবস্থান নেন, যা মার্কিন নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী আদর্শের প্রতীক। অপরদিকে মকসুদপুরের মাতব্বর সমবায়ের পক্ষে অবস্থান নেন, যা সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে নির্দেশ করে। উভয়েই নিজেদের প্রভাব বিস্তারে যথাক্রমে ন্যাটো (NATO) ও ওয়ারশ (Warsaw Pact) জোটের মতো পাল্টাপাল্টি অক্ষ গড়ে তোলে। ঠিক উদ্দীপকের মতোই স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও দুই পরাশক্তি কখনো সরাসরি কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি, কিন্তু সর্বত্র যুদ্ধের এক চরম উত্তেজনা ও শঙ্কা বিরাজমান ছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠান্ডা লড়াই বিশ্বকে স্পষ্টত দুটি মেরুতে (দ্বিমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব) বিভক্ত করেছিল।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে পুঁজিবাদী বা গণতান্ত্রিক বলয়, যার প্রধান সামরিক জোট ছিল ন্যাটো (NATO)। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সমাজতান্ত্রিক বলয়, যার সামরিক রূপ ছিল ওয়ারশ প্যাক্ট (Warsaw Pact)।

    এই বিভাজনের ফলে বিশ্বের দেশগুলো দুটি শিবিরের যেকোনো একটির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়। ইউরোপ বিভক্ত হয়ে পড়ে পূর্ব ও পশ্চিম ব্লকে এবং তথাকথিত 'লৌহ পর্দা' (Iron Curtain) দিয়ে এই দুই শিবিরকে আলাদা করা হয়। বার্লিন সংকট, কোরিয়া যুদ্ধ, কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ—সবকিছুতেই এই দ্বিমেরুকরণের প্রত্যক্ষ প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছিল। ফলে বিশ্বশান্তি সবসময় পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কায় হুমকির মুখে থাকত। অতএব, এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, এই স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বরাজনীতিকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করে রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন