অর্থনীতি ২য় পত্র • বাংলাদেশের শিল্প • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. জনসন ইংল্যান্ডের একজন সফল ব্যবসায়ী। তার দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় এসবের প্রায় সবকিছুই তিনি বাংলাদেশ থেকে ক্রয় করেন। ২০১৪ সালে জনসন বাংলাদেশে এসে এক সপ্তাহ অবস্থানকালে বেশকিছু তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন এবং এ শিল্পের বেশ কিছু সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। তিনি মনে করেন, কারিগরি উন্নয়ন, উৎপন্ন পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, পোশাকের আইটেম বৃদ্ধি করতে পারলে এদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ২০১৫ সালে মি. জনসন আবার বাংলাদেশে এসে হাজারীবাগে বেশ কিছু চামড়াজাত পণ্য তৈরি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং এ শিল্পের ভবিষ্যত সম্ভাবনাও ১ তার কাছে খুব উজ্জ্বল মনে হয়।

  1. ক)

    হাইটেক শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পায়নের মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করে?

    (2)
  3. গ)

    মি. জনসন কর্তৃক ২০১৪ সালে পরিদর্শনকৃত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে যেসব পরামর্শগুলো দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মি. জনসন ২০১৫ সালে যে শিল্প পরিদর্শন করেন, ঐ শিল্পের ভবিষ্যত সম্ভাবনা সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করেন, তার সাথে তুমি কি একমত?- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উন্নত জ্ঞান ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী কৌশল ব্যবহার করে যেসব শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে হাইটেক শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিল্পায়নের মাধ্যমে একটি দেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও মূলধনী সামগ্রী নিজেরাই উৎপাদন করতে সক্ষম হয়, ফলে বৈদেশিক পণ্যের ওপর আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পায়। পাশাপাশি উৎপাদিত উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. জনসন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প পরিদর্শন করে এর সমস্যা নিরসনে যেসব পরামর্শ দিয়েছেন, তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. কারিগরি উন্নয়ন: পোশাক উৎপাদনে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটানো, যাতে উৎপাদন সময় ও ব্যয় কমে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
    ২. পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড অনুযায়ী কাপড়ের বুনন, টেকসই স্থায়িত্ব এবং ফিনিশিং উন্নত করা, যাতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
    ৩. শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ: কর্মীদের আধুনিক সেলাই ও নকশা প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, যা শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে।
    ৪. পোশাকের আইটেম বৃদ্ধি (পণ্য বহুমুখীকরণ): শুধু প্রচলিত শার্ট, টি-শার্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈচিত্র্যময় ও উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি করা।

    এই পরামর্শগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, ২০১৫ সালে মি. জনসন চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা পরিদর্শন করে এ শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করেছেন, তার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
    ১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পশু জবাই হওয়ার কারণে চামড়া শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বা কাঁচা চামড়া দেশেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
    ২. সস্তা শ্রম: চামড়াজাত পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তি বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে কম মজুরিতে সহজলভ্য, যা উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখে।
    ৩. বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা: পাদুকা, ব্যাগ, জ্যাকেট, বেল্ট ইত্যাদি চামড়াজাত পণ্যের একটি বিশাল ও ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
    ৪. ভ্যালু অ্যাডিশন বা মূল্য সংযোজন: সরাসরি কাঁচা চামড়া রপ্তানি না করে প্রক্রিয়াজাত চামড়া ও ফিনিশড চামড়াজাত পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করলে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

    হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের মতো পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পরিবেশগত মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা গেলে চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকের মতোই দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে বিকশিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন