কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আয়শা বেগম একজন গৃহিণী। তার কোনো আবাদি জমি নাই। সে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে মাশরুম চাষের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ নিয়ে সে তার বাড়িতে স্ট্র মাশরুম চাষ শুরু করে এবং উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে পর্যাপ্ত মাশরুম উৎপাদন করে এবং সফলতা অর্জন করে।

  1. ক)

    রাইজোবিয়াম কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃত্রিম প্রজননের সুবিধাগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আয়শা বেগমকে মাশরুম চাষে কী ধরনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আয়শা বেগমের উদ্যোগটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাইজোবিয়াম হলো এক ধরনের নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত শিমজাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে বাস করে বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃত্রিম প্রজনন হলো একটি উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে উৎকৃষ্ট জাতের পুরুষ প্রাণীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে তা প্রজনন ঋতুতে স্ত্রী প্রাণীর জননতন্ত্রে স্থাপন করা হয়। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
    ১. একটি উৎকৃষ্ট জাতের ষাঁড় বা পুরুষ প্রাণীর সিমেন দিয়ে অনেক বেশি সংখ্যক গাভীকে প্রজনন করানো যায়, ফলে জাত দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়।
    ২. দূর-দূরান্ত থেকে উন্নত জাতের বীর্য তরল বা হিমায়িত অবস্থায় সহজে বহন করে আনা যায় এবং সংক্রামক প্রজনন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আয়শা বেগম স্ট্র মাশরুম চাষ করেছেন। স্ট্র মাশরুমের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য চাষের ঘরে নির্দিষ্ট অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. তাপমাত্রা: স্ট্র মাশরুম তুলনামূলকভাবে উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মে। এর জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা ২৮° থেকে ৩৫° সেলসিয়াসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
    ২. আর্দ্রতা: চাষের ঘরের বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০% থেকে ৯০% এর মধ্যে বজায় রাখতে হবে। আর্দ্রতা কমে গেলে দেয়ালে বা মেঝেতে পানি স্প্রে করতে হবে।
    ৩. বায়ু চলাচল ও আলো: ঘরে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ বাতাসের চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে যেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি না পায়। মৃদু আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে, তবে সরাসরি তীব্র সূর্যালোক প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
    ৪. পরিচ্ছন্নতা: মাশরুম চাষের ঘর ও পরিবেশ সবসময় জীবাণুমুক্ত এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যেন ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগজীবাণুর আক্রমণ না ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আয়শা বেগমের গৃহীত মাশরুম চাষের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. আবাদি জমি ছাড়াই উৎপাদন: আয়শা বেগমের কোনো চাষযোগ্য আবাদি জমি নেই। মাশরুম একটি ইনডোর বা ঘরোয়া ফসল হওয়ায় তিনি বসতবাড়ির অব্যবহৃত স্থান বা ছোট ঘরে সহজেই তা চাষ করতে পেরেছেন, যা ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।
    ২. আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি: একজন গৃহিণী হিসেবে তিনি ঘরে বসেই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। মাশরুম একটি স্বল্পমেয়াদি উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় অল্প পুঁজিতে দ্রুত মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
    ৩. পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ: মাশরুম প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন খাবার। নিজের উৎপাদিত মাশরুম দিয়ে পরিবারের পুষ্টি ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাশরুম বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব।
    ৪. নারী ক্ষমতায়ন: গ্রামীণ ও শহরতলির নারীরা মাশরুম চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
    অতএব, আয়শা বেগমের মাশরুম চাষের এই উদ্যোগটি বেকারত্ব দূরীকরণ, পারিবারিক সচ্ছলতা আনয়ন এবং সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন