সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
কামরুল আহসান একজন পরহেজগার ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। ধর্মীয় রীতি অনুসারে তিনি প্রতি বছর তার সম্পদের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট খাতে গরিব ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করেন। এর মাধ্যমে সামাজিক সংহতি বজায় থাকে এবং ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস পায়।
- ক)(1)
সামাজিক নিরাপত্তা কত প্রকার?
- খ)(2)
দানশীলতার একটি দুর্বল দিক বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কামরুল আহসানের বিতরণকৃত সম্পদ কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ কার্যক্রমকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নির্দেশকৃত ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ কার্যক্রমের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিরাপত্তা প্রধানত তিন প্রকার। যথা: সামাজিক বীমা, সামাজিক সাহায্য এবং জনসেবামূলক বা সরকারি স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দানশীলতার একটি প্রধান দুর্বল দিক হলো এটি সাহায্যপ্রার্থীকে পরনির্ভরশীল ও অলস করে তোলে।
দানশীলতা সাধারণত তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে বা অভাব দূর করতে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় প্রদান করা হয়, যেখানে কোনো বিজ্ঞানসম্মত দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকে না। ফলে গ্রহীতা স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা হারায় এবং স্থায়ীভাবে অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা মানবসম্পদের উৎপাদনশীলতা ব্যাহত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কামরুল আহসানের বিতরণকৃত সম্পদ ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ কার্যক্রমের 'যাকাত' ব্যবস্থাকে নির্দেশ করেছে।
ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো যাকাত। নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের (নিসাব পরিমাণ) মালিক হলে নির্দিষ্ট নিয়মে বছরান্তে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ (২.৫%) সুনির্দিষ্ট আটটি খাতের অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করাকে যাকাত বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কামরুল আহসান একজন পরহেজগার ব্যক্তি হিসেবে ধর্মীয় রীতি অনুসারে প্রতি বছর তাঁর অতিরিক্ত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ সুনির্দিষ্ট খাতে গরিব ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করেন। এর ফলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস পায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা, সুনির্দিষ্ট খাত এবং বাৎসরিক বিতরণের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি সুস্পষ্টভাবে ইসলামি সমাজকল্যাণের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্তম্ভ 'যাকাত'কে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ কার্যক্রমটি হলো 'যাকাত'। সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।
যাকাতের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন: যাকাত শুধু তাৎক্ষণিক অনুদান নয়, বরং দরিদ্রদের এমনভাবে সহায়তা করা যায় যাতে তারা স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। এর পরিকল্পিত বণ্টনের মাধ্যমে সমাজের স্থায়ী দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব।
২. অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস: পুঁজিবাদী সমাজে সম্পদ কিছু পুঁজিপতির হাতে পুঞ্জীভূত হয়। যাকাত ধনী ব্যক্তিদের উদ্বৃত্ত সম্পদ দরিদ্রদের মাঝে সঞ্চালনের মাধ্যমে ধনবৈষম্য দূর করে সুষম অর্থবণ্টন নিশ্চিত করে।
৩. সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি: যাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার দূরত্ব ও পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। এর ফলে সমাজে সৌহার্দ্য ও সামাজিক সংহতি বজায় থাকে।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা বিধান: অসহায়, এতিম, বিধবা, ঋণগ্রস্ত ও অক্ষম ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার অধিকার ও মৌলিক চাহিদা পূরণে যাকাত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম প্রাচীন ও ফলপ্রসূ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, যাকাত একটি সার্বজনীন কল্যাণমুখী ব্যবস্থা, যা সমাজ থেকে শোষণ ও বঞ্চনা দূর করে একটি সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও