গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • রাজশাহী মহিলা কলেজ • রাজশাহী মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রতিবছর আমাদের জান ও মালের অনেক ক্ষতিসাধন হয়। মূলত পরিবেশ দূষণই এর প্রধান কারণ। মানুষ বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। শুধু সরকার নয়, জনগণকেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।
- ক)(1)
দুর্যোগ কাকে বলে?
- খ)(2)
উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো কী ধরনের দূষণ?-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
পরিবেশ দূষণের কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে শেষের বাক্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কোনো আকস্মিক ও চরম ঘটনা যা মানবসমাজ, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে এবং যার মোকাবিলা ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের নিজস্ব সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়, তাকে দুর্যোগ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হলো শব্দদূষণ। সহনশীল মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ও অপ্রীতিকর শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর। মাইক বাজানোর ফলে তীব্র শব্দের সৃষ্টি হয়, যা শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মাথাব্যথা এবং শিশুদের স্নায়বিক সমস্যার সৃষ্টি করে। পরিবেশের স্বাভাবিক শান্ত ভাব নষ্ট করে শব্দতরঙ্গ দূষিত করায় এটি শব্দদূষণের অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন: শিল্পকারখানার বর্জ্য, বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক পদার্থ অপরিশোধিত অবস্থায় নির্গমন পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
২. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: অতিরিক্ত জনসংখ্যার বাসস্থান ও খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বনভূমি ধ্বংস এবং জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
৩. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার: কলকারখানা ও যানবাহনে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়ে বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়।
৪. প্লাস্টিক ও পলিথিনের অপব্যবহার: অপচনশীল বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে মাটি ও পানি দূষিত হচ্ছে।
৫. কৃষিতে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার: জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে তা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাশয়ে গিয়ে জলজ পরিবেশ ও মাটি দূষিত করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষের বাক্যটি হলো: “শুধু সরকার নয়, জনগণকেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।”—উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা একটি বহুমাত্রিক ও সমন্বিত প্রক্রিয়া, যা কেবল সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পুরোপুরি সফল করা অসম্ভব। সরকারের ভূমিকা সাধারণত নীতি প্রণয়ন, আগাম সতর্কবার্তা প্রদান, বাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের মধ্যে নিহিত থাকে।
তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। জনগণ যদি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করে, পরিবেশ সচেতন হয়ে গাছপালা লাগায়, বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখে এবং দুর্যোগের সংকেত মেনে সঠিক সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়, তবে জানমালের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়। এছাড়া দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধারকাজে স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া কঠিন। সুতরাং, সরকারের সক্ষমতার পাশাপাশি সচেতন ও দায়িত্বশীল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও