গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • রাজশাহী মহিলা কলেজ • রাজশাহী মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নিলু তার বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে নতুন পোশাক তৈরির পরিকল্পনা করল। পোশাকটি তৈরির আগে কাগজে নকশা এঁকে কাপড়টি কেটে সেলাই করল। কিন্তু দেখা গেল দুই হাতার ছাপাগুলো ঠিকভাবে বসেনি। ধোয়ার পর পোশাকটি আটসাট হয়ে গেল।
- ক)(1)
গ্রেন লাইন কী?
- খ)(2)
মূল নকশার পরিবর্তিত রূপ প্যাটার্ন ড্রাফটিং- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
নিলু পোশাক তৈরির পূর্বে কোন পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছিল? সঠিক ফিটিং-এর পোশাক তৈরিতে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নিলু পোশাক তৈরির পর্যায়গুলো কি যথাযথভাবে পালন করেছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাপড়ের যে সুতা বরাবর টান টান অবস্থা থাকে অর্থাৎ কাপড়ের টানা সুতার সমান্তরাল দিকনির্দেশক রেখাকে গ্রেন লাইন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পোশাক তৈরির প্রাথমিক ধাপ হলো মূল নকশা বা স্কেচ তৈরি করা। কিন্তু শুধু স্কেচ দেখে সরাসরি কাপড়ে নিখুঁত কাটিং সম্ভব নয়। প্যাটার্ন ড্রাফটিং হলো ব্যক্তির নির্দিষ্ট শারীরিক মাপ অনুযায়ী নকশাকে জ্যামিতিক নিয়মে কাগজে বিভিন্ন অংশে নিখুঁতভাবে রূপান্তর করা। এতে পোশাকের প্রতিটি অংশের অনুপাত, সিম অ্যালাউন্স বা সেলাই ছাড় যথাযথভাবে যুক্ত করা হয়। তাই প্যাটার্ন ড্রাফটিং হলো মূল নকশারই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পরিবর্তিত রূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিলু পোশাক তৈরির পূর্বে 'কাগজে নকশা এঁকে কাটার' যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল, তা মূলত 'প্যাটার্ন ড্রাফটিং' পদ্ধতি।
সঠিক ফিটিং-এর পোশাক তৈরিতে প্যাটার্ন ড্রাফটিং-এর গুরুত্ব অপরিসীম:
১. নিখুঁত মাপ: শরীরের বিভিন্ন অংশের সূক্ষ্ম মাপ অনুযায়ী প্যাটার্ন তৈরি করলে পোশাক ঢিলেঢালা বা অতিরিক্ত আঁটসাঁট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
২. কাপড়ের অপচয় রোধ: সরাসরি কাপড়ে দাগ দিয়ে কাটলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কাগজে প্যাটার্ন বসিয়ে নকশা কাটলে ভুলত্রুটি আগেই সংশোধন করা যায় এবং কাপড়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
৩. পেশাদার রূপ ও ভারসাম্য: প্যাটার্ন ব্যবহারের মাধ্যমে গলার শেপ, হাতার মোহড়া ও বডি লাইনের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে, যা আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় ফিটিং প্রদান করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, নিলু পোশাক তৈরির পর্যায়গুলো যথাযথভাবে পালন করেনি। উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে নিলুর কাজের বেশ কিছু বড় ভুল পরিলক্ষিত হয়:
১. কাপড় প্রাক-সংকোচন (Pre-shrinking) না করা: সুতি বা নির্দিষ্ট কিছু কাপড় ধোয়ার পর সংকুচিত (shrink) হয়ে যায়। তাই কাটার আগে কাপড় ভিজিয়ে শুকিয়ে ও ইস্ত্রি করে নেওয়া আবশ্যক ছিল। নিলু তা না করায় ধোয়ার পর পোশাকটি সংকুচিত হয়ে আঁটসাঁট হয়ে গেছে।
২. প্রিন্ট ও গ্রেন লাইনের অসামঞ্জস্য: দুই হাতার ছাপা বা প্রিন্ট ঠিকমতো না বসার কারণ হলো কাপড় কাটার সময় নিলু কাপড়ের প্রিন্টের দিক (one-way print) এবং গ্রেন লাইন (সুতার অভিমুখ) সঠিকভাবে খেয়াল করেনি। কাপড়ে প্যাটার্ন লে-আউট করার সময় প্রিন্ট মেলানো একটি আবশ্যক ধাপ।
৩. ট্রায়াল বা ফিটিং পরীক্ষা না করা: সেলাই চূড়ান্ত করার আগে ট্রায়াল না দেওয়ার কারণে পোশাকটির সামগ্রিক গঠনে ত্রুটি স্পষ্ট হয়েছে।
অতএব, নিলু পোশাক তৈরির আবশ্যক পর্যায়গুলো—যেমন কাপড় প্রস্তুতকরণ (ধোয়া ও ইস্ত্রি), সতর্ক লে-আউট ও প্রিন্ট মেলানো যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় পোশাকটি নষ্ট হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও