ভূগোল ১ম পত্র • ভূমিরূপ পরিবর্তন • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
দোয়াব কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশের অধিকাংশ ভূমি নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১ম অবস্থার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ২য় ও ৩য় অবস্থার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূভাগকে দোয়াব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ একটি বৃহৎ নদীমাতৃক বদ্বীপ অঞ্চল। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং এদের অসংখ্য উপনদী ও শাখা নদী হিমালয় ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে পলিমাটি বহন করে আনে। বর্ষাকালে নদীগুলো দুকূল ছাপিয়ে প্লাবিত হয় এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় এই পলল বিস্তীর্ণ অববাহিকায় স্তরে স্তরে জমা হয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই পলি সঞ্চয়নের ফলেই বাংলাদেশের অধিকাংশ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১ম অবস্থাটি হলো নদীর পার্বত্য বা ঊর্ধ্বগতি (উৎস পর্যায়)।
বর্ণনা:
১. তীব্র স্রোত ও ঢাল: নদীর উৎপত্তিস্থল বা পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমির ঢাল অত্যন্ত খাড়া থাকে, ফলে নদীর স্রোতের বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।
২. প্রধান কাজ ক্ষয়সাধন: এ পর্যায়ে নদীর প্রধান কাজ হলো নিম্নক্ষয়। নদী তার তলদেশকে দ্রুত ও গভীরভাবে ক্ষয় করে।
৩. গঠিত ভূমিরূপ: তীব্র নিম্নক্ষয়ের ফলে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো গভীর উপত্যকা, গিরিখাত (Gorge) ও ক্যানিয়ন সৃষ্টি হয়। এছাড়া নদীপথে কঠিন ও নরম শিলা পর্যায়ক্রমে অবস্থান করলে খাড়া ঢাল বেয়ে পানি নিচে আছড়ে পড়ে জলপ্রপাত (Waterfall) সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নদীর পার্শ্বক্ষয় ও সঞ্চয়কাজ প্রায় অনুপস্থিত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ২য় অবস্থা হলো নদীর মধ্যগতি (সমতল বা মধ্য পর্যায়) এবং ৩য় অবস্থা হলো নদীর নিম্নগতি (মোহনা বা শেষ পর্যায়)। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভূমির ঢাল ও স্রোতের বেগ: মধ্যগতিতে ভূমির ঢাল পাহাড়ি অঞ্চলের চেয়ে কমে আসে এবং নদীর স্রোতের বেগ পরিমিত হয়। অন্যদিকে, নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল একেবারে সমতল হয়ে যায় এবং স্রোতের বেগ অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ে।
২. নদীর প্রধান কাজ: মধ্যগতিতে নদী মূলত পার্শ্বক্ষয় ও পরিবহন কাজ বেশি করে। পক্ষান্তরে, নিম্নগতিতে নদীর ক্ষয়কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং সঞ্চয়কাজই প্রধান হয়ে ওঠে।
৩. উপত্যকার বৈশিষ্ট্য: মধ্যগতিতে পার্শ্বক্ষয়ের কারণে নদীর উপত্যকা চওড়া বা ইংরেজি 'U' আকৃতির হয়। নিম্নগতিতে উপত্যকা অত্যন্ত অগভীর এবং নদীপথ অত্যন্ত প্রশস্ত হয়।
৪. গঠিত ভূমিরূপ: মধ্যগতিতে নদী এঁকেবেঁকে চলে, ফলে নদীবাঁক (Meander), অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow lake) ইত্যাদি ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, নিম্নগতিতে নদী মোহনায় পলি জমা হয়ে বদ্বীপ (Delta), বালুচর ও প্লাবন সমভূমি গড়ে তোলে।
অতএব, ঢাল, স্রোতের বেগ, কার্যপ্রক্রিয়া এবং গঠিত ভূমিরূপের দিক থেকে নদীর মধ্য ও নিম্নগতির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও