ভূগোল ১ম পত্র • সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা- ১ – সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট দিকে চলাচল করে।ঘটনা- ২ – সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় পর পর উঠানামা করে।
- ক)(1)
জোয়ারভাটা কাকে বলে?
- খ)(2)
মুখ্য জোয়ার বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-১ এর কারণ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে উদ্দীপকের ঘটনা-২ এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সমুদ্রের জলরাশির নিয়মিত ও পর্যায়ক্রমিক স্ফীতি বা ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়া বা হ্রাস পাওয়াকে ভাটা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চন্দ্র ও পৃথিবীর আবর্তনের কারণে চাঁদের সম্মুখবর্তী জলরাশি চাঁদের তীব্রাকর্ষণে সরাসরি ফুলে ওঠে। এভাবে চাঁদের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলা হয়। এতে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-১ হলো 'সমুদ্রস্রোত'। সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: আয়ন, পশ্চিমা ও মেরু বায়ুর ঘর্ষণে সমুদ্রের উপরিভাগের পানি বায়ুর অনুকূলে প্রবাহিত হয়।
২. পৃথিবীর আবর্তন গতি: কোরিওলিস বলের কারণে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
৩. পানির উষ্ণতার পার্থক্য: ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও হালকা পানি বহিঃস্রোত হিসেবে মেরুর দিকে এবং মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী পানি অন্তঃস্রোত হিসেবে বিষুবীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
৪. লবণাক্ততার তারতম্য: কম লবণাক্ত হালকা পানি উপরিভাগ দিয়ে এবং অধিক লবণাক্ত ভারী পানি গভীর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
৫. স্থলভাগের অবস্থান: উপকূল বা দ্বীপের উপস্থিতিতে স্রোতের দিক পরিবর্তিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-২ হলো 'জোয়ার-ভাটা'। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বহুমুখী:
১. নৌ-চলাচল ও বন্দর পরিচালনা: জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, ফলে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মতো প্রধান নদীবন্দরগুলোতে বড় বড় জাহাজ সহজে প্রবেশ করতে পারে এবং ভাটার সময় অনুকূল স্রোতে সমুদ্রে নেমে যায়।
২. পলি অপসারণ: নিয়মিত জোয়ার-ভাটার টানে নদীবাহিত পলি সমুদ্রে চলে যায়, যার ফলে নদী মোহনা ভরাট হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
৩. কৃষি ও সেচ: উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের মিঠা পানি খাল বা নালা দিয়ে ফসলি জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে উচ্চ জোয়ারে অনেক সময় নোনা পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি সাধন করে।
৪. লবণ উৎপাদন ও মৎস্য চাষ: কক্সবাজার ও উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের নোনা পানি আটকে রেখে লবণ তৈরি এবং চিংড়ি চাষ করা হয়।
৫. দুর্যোগের প্রকোপ: ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের সময় যদি পূর্ণিমার তেজকটাল বা তীব্র জোয়ার থাকে, তবে উপকূলবর্তী বাঁধ ভেঙে জনপদ প্লাবিত হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
অতএব, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় জোয়ার-ভাটার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও