‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জাইমা বাংলাদেশের নাগরিক। সে জানে ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির ঐক্যবদ্ধতার সূত্রপাত। ভাষার দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার পূর্বসূরীরা রক্ত দিয়েছে। ভাষা আন্দোলনের চেতনাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র।

  1. ক)

    জাতি কী?

    (1)
  2. খ)

    দেশপ্রেম বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জাতি গঠনের কোন উপাদানটি ভূমিকা রেখেছে? বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটি ছাড়া জাতি গঠনে আর কী কী উপাদান রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত জনসমাজ যখন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে বা গঠনের জন্য সচেষ্ট হয়, তখন তাকে জাতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশপ্রেম বলতে নিজের দেশ ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং আনুগত্যকে বোঝায়। এটি একজন নাগরিককে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, কল্যাণ সাধন এবং দেশের প্রয়োজনে আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। দেশপ্রেম নাগরিকের মানসিক উৎকর্ষ সাধন করে এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি তৈরি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জাতি গঠনে 'ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য' উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাইমার পূর্বসূরীরা ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রক্ত দিয়েছিল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালির ঐক্যবদ্ধতার সূত্রপাত ঘটে। ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। একই ভাষায় কথা বলার অনুভূতি একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে প্রগাঢ় মানসিক ও আত্মিক বন্ধন সৃষ্টি করে, তা জাতি গঠনে অত্যন্ত শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

    বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনই প্রথম জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। সুতরাং, উদ্দীপকে জাতি গঠনে ভাষাভিত্তিক ঐক্যের ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষাভিত্তিক ঐক্য ছাড়াও জাতি গঠনে আরও বেশ কিছু অপরিহার্য উপাদান রয়েছে। নিচে এগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভৌগোলিক ঐক্য: একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ডে দীর্ঘকাল একসঙ্গে বসবাসের ফলে জনগণের মধ্যে গভীর সান্নিধ্য ও প্রীতির বন্ধন গড়ে ওঠে, যা জাতি গঠনে সাহায্য করে।
    ২. বংশগত বা নৃতাত্ত্বিক ঐক্য: একই রক্ত বা বংশোদ্ভূত হওয়ার বিশ্বাস জনগণের মধ্যে সংহতি ও ঐক্যের ভাব জোরদার করে।
    ৩. ধর্মীয় ঐক্য: সমধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংহতি স্থাপনে প্রাচীনকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
    ৪. ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ঐক্য: একই গৌরবময় অতীত, সংগ্রাম, সুখ-দুঃখের স্মৃতি এবং ঐতিহ্য জাতিকে মানসিকভাবে একতাবদ্ধ করে।
    ৫. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐক্য: অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা বা স্বাধীনতা অর্জনের যৌথ প্রত্যয় একটি জনসমাজকে জাতিতে রূপান্তর করতে অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করে।

    অতএব, কেবল ভাষার ঐক্যই নয়, উপরোক্ত উপাদানগুলোর পারস্পরিক সংমিশ্রণে জাতি গঠিত ও সুসংহত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন