কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
হেলালদের জমিতে আলুর ব্যাপক ফলন হয়। হেলাল তার জমিতে উৎপাদিত আলু নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। হেলালের মা তাকে আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের কথা বলেন এবং তিনি নিজে আলুর এক ধরনের মুখরোচক খাদ্য তৈরি করেন। খাদ্যটি নারী-পুরুষ, বিশেষভাবে শিশুদের নিকট খুবই প্রিয়।
- ক)(1)
জেলি কী?
- খ)(2)
ফল পচনের লক্ষণগুলো লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মুখরোচক খাদ্যটি তৈরির কৌশল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটির সংরক্ষণের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফলের পরিষ্কার ও স্বচ্ছ রসকে পেকটিন, চিনি ও এসিডের নির্দিষ্ট অনুপাতে ফুটিয়ে তৈরি জমানো থকথকে ও স্বচ্ছ খাদ্যপণ্যকে জেলি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফল পচনের প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
১. ফলের ত্বক বিবর্ণ হয়ে যায়, নরম হয়ে গলে যায় এবং ত্বক কুঁচকে যায়।
২. ফলের গায়ে বাদামি, কালো বা জলভেজা দাগ দেখা দেয় এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। কখনও কখনও ফলের গায়ে ছত্রাকের আক্রমণ (সাদা বা ধূসর আবরণ) দেখা যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হেলালের মা যে মুখরোচক খাদ্যটি তৈরি করেন, তা হলো 'পটেটো চিপস' (আলুর চিপস)। নিচে আলু দিয়ে চিপস তৈরির কৌশল ব্যাখ্যা করা হলো:
১. আলু নির্বাচন ও ছাল ছাড়ানো: রোগমুক্ত, বড় ও আঁশহীন গোল আলু নির্বাচন করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ছাল বা খোসা ছাড়িয়ে নিতে হয়।
২. স্লাইস করা: চিপস কাটার যন্ত্র (স্লাইসার) দিয়ে আলুকে অত্যন্ত পাতলা পাতলা গোল টুকরা বা স্লাইস করে কাটতে হয়।
৩. ব্লাঞ্চিং বা ধৌতকরণ: আলুর স্লাইসগুলো ঠান্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে অতিরিক্ত স্টার্চ বা শ্বেতসার দূর করতে হয়। এরপর ফুটন্ত পানিতে সামান্য লবণ ও পটাসিয়াম মেটাবাইসালফাইট দিয়ে ১-২ মিনিট আলুর স্লাইসগুলো ফুটিয়ে (ব্লাঞ্চিং) দ্রুত তুলে ঠান্ডা পানিতে দিতে হয়।
৪. শুকানো: ব্লাঞ্চ করা আলুর টুকরোগুলো পরিষ্কার কাপড়ে বা রোদে/ড্রায়ারে শুকিয়ে উপরিভাগের পানি দূর করতে হয়।
৫. ভাজা ও সংরক্ষণ: কড়াইয়ে পর্যাপ্ত সয়াবিন তেল গরম করে মাঝারি আঁচে আলুর টুকরোগুলো মচমচে ও হালকা সোনালি রং হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হয়। ভাজা শেষে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে লবণ, বিট লবণ বা মরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে মুখরোচক চিপস তৈরি করা হয় এবং বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি হলো আলু। বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় আলু সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. অপচয় রোধ: আলু একটি পচনশীল ফসল। কাটার মৌসুমে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে রোগবালাই ও পচনে প্রায় ২০-২৫% আলু নষ্ট হয়ে যায়। উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা (যেমন হিমাগার বা দেশীয় পদ্ধতি) এই বিশাল অপচয় রোধ করে।
২. ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: আলুর তোলার মৌসুমে বাজারে সরবরাহ অতিরিক্ত বেড়ে যায়, ফলে আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। সংরক্ষণ সুবিধা থাকলে কৃষক কম দামে আলু বিক্রি না করে মজুদ রাখতে পারে এবং পরে বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পায়।
৩. সারা বছর প্রাপ্যতা ও খাদ্য নিরাপত্তা: সংরক্ষণের মাধ্যমে সারা বছর ধরে আলুর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা যায়, যা চাল ও গমের ওপর চাপ কমিয়ে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখে।
৪. বীজ আলু সংরক্ষণ: পরবর্তী মৌসুমে ভালো ফলনের জন্য রোগমুক্ত ও উন্নত মানের বীজ আলু অত্যন্ত জরুরি। হিমাগারে ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বীজ আলু গুণগত মান ঠিক রেখে সংরক্ষণ করা যায়।
৫. প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্প্রসারণ: চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ইত্যাদি মুখরোচক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কাঁচামাল হিসেবে আলুর সারা বছর জোগান দিতে আলু সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।সুতরাং, জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধকরণ এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আলু সংরক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও