সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
পৃথিবীর সর্বত্র নববর্ষ একটি প্রচলিত উৎসব। সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তক। বাংলা নববর্ষ এখন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বজনীন এক জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালির কর্মপ্রভাবে নববর্ষের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে চারদিকে নানারকম মেলা বসে। পান্তা-ইলিশ খাওয়ার মহাউৎসব চলে। নববর্ষ আজ সত্যের গৌরব, মঙ্গলের গৌরব। মহত্ত্বের গৌরবে সকলের জীবন। উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক, সেই প্রত্যাশা সকলের।
- ক)(1)
ম্যাকাইভারের মতে, সমাজের অর্থ কী?
- খ)(2)
বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রত্যয়কে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রত্যয়ের সাথে সভ্যতার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ম্যাকাইভারের মতে, সমাজের অর্থ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের এমন এক রূপ বা জাল যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে (Society is a web of social relationships).
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানুষের তৈরি সংস্কৃতির দৃশ্যমান, স্পর্শযোগ্য ও বাহ্যিক উপাদানগুলোকে বোঝায়। যেমন—ঘরবাড়ি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি মানুষের জীবনযাপনের বস্তুগত বা স্পর্শযোগ্য সৃষ্টিই হলো বস্তুগত সংস্কৃতি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক প্রত্যয় 'সংস্কৃতি' (Culture)-কে ইঙ্গিত করে।
সংস্কৃতি হলো মানুষের সমগ্র জীবনপ্রণালী, বিশ্বাস, প্রথা, উৎসব, আচার-আচরণ এবং শিল্পকর্মের সামগ্রিক রূপ। নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলরের মতে, সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিকতা যার অন্তর্ভুক্ত জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইন, প্রথা এবং সমাজের একজন সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্যান্য সক্ষমতা ও অভ্যাস।
উদ্দীপকে নববর্ষ উদযাপন, মেলা, পান্তা-ইলিশ খাওয়ার উৎসব এবং এর পেছনে থাকা মূল্যবোধ ও জীবনাচরণের প্রতিফলন ঘটেছে। এগুলো বাঙালির চিরায়ত কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে প্রকাশ করে। অতএব, এটি সমাজবিজ্ঞানের 'সংস্কৃতি' প্রত্যয়টির পরিচায়ক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্যয়টি হলো 'সংস্কৃতি'। সংস্কৃতি এবং সভ্যতার (Civilization) মধ্যে গভীর সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য: সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "সংস্কৃতি হলো আমরা যা, আর সভ্যতা হলো আমরা যা ব্যবহার করি" (Culture is what we are, civilization is what we use)। অর্থাৎ আমাদের চিন্তাভাবনা, আচার-আচরণ, বিশ্বাস হলো সংস্কৃতি; আর আমাদের বাহ্যিক উপকরণ, প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠান হলো সভ্যতা।
২. পরিমাপযোগ্যতা: সভ্যতার অগ্রগতি সহজে পরিমাপ করা যায় (যেমন: প্রযুক্তির মান, দালানকোঠা), কিন্তু সংস্কৃতির অগ্রগতি সরাসরি পরিমাপযোগ্য নয় কারণ এটি মানসিক ও মূল্যবোধ সংক্রান্ত।
৩. হস্তান্তরযোগ্যতা: সভ্যতা সহজে এবং দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গৃহীত ও স্থানান্তরিত হতে পারে (যেমন: কম্পিউটার বা মোবাইল প্রযুক্তি)। কিন্তু সংস্কৃতি সহজে পরিবর্তন বা গ্রহণ করা যায় না, এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
৪. লক্ষ্য ও মাধ্যম: সংস্কৃতি সাধারণত চূড়ান্ত লক্ষ্য ও আত্মিক অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত, অন্যদিকে সভ্যতা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার ও বিকশিত করার মাধ্যম বা বাহ্যিক কাঠামো হিসেবে কাজ করে।
সুতরাং, সংস্কৃতি হলো মানবজীবনের আত্মিক ও আচরণগত পরিচয় এবং সভ্যতা হলো তার বৈষয়িক ও প্রযুক্তিগত রূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও