সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
শিল্পবিপ্লবের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি বহুমুখী জটিল ও পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যার সৃষ্টি হয়, যা অর্থ ও বস্তুগত সেবার মাধ্যমে সমাধান দেওয়া সম্ভব ছিল না। শিল্পবিপ্লবোত্তর আধুনিক সমাজের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর ও বুদ্ধিভিত্তিক পেশাদার সেবা কার্যক্রমের প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ক)(1)
প্রথম শিল্পবিপ্লব নামকরণ করেছিলেন কে?
- খ)(2)
দরিদ্র আইন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
শিল্পবিপ্লবের ফলে কোন পেশার উদ্ভব হয়েছে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পেশার বিকাশে শিল্পবিপ্লবের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইংরেজ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) প্রথম 'শিল্পবিপ্লব' (Industrial Revolution) কথাটির নামকরণ বা জনপ্রিয় করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্র আইন বলতে দরিদ্র ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ, পুনর্বাসন, সমাজে তাদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং দারিদ্র্য নিরসনে সরকার কর্তৃক প্রণীত আনুষ্ঠানিক আইনসমূহকে বোঝায়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে চতুর্দশ শতাব্দী থেকে শুরু করে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন ও ১৮৩৪ সালের সংস্কারকৃত দরিদ্র আইন মূলত দারিদ্র্য ও ভিক্ষাবৃত্তির সমস্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধানের লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পবিপ্লবের ফলে 'আধুনিক বা পেশাদার সমাজকর্ম' (Professional Social Work) পেশার উদ্ভব হয়েছে।
শিল্পবিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড ও পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত কৃষিভিত্তিক সমাজ ভেঙে শিল্পভিত্তিক ও শহরমুখী সমাজের সৃষ্টি হয়। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এর ফলে শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন, বস্তি সমস্যা, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, বেকারত্ব, অপরাধপ্রবণতা ইত্যাদি জটিল সমস্যার জন্ম নেয়। সনাতন ও ব্যক্তিগত দানশীলতা বা ধর্মীয় অনুশাসন দিয়ে এসব বহুমুখী ও জটিল সমস্যার স্থায়ী প্রতিকার করা সম্ভব ছিল না।
এই প্রেক্ষাপটে সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে কার্যকরভাবে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতানির্ভর সেবা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ফলেই কালক্রমে একটি বিজ্ঞানসম্মত মানবিক সাহায্যকারী পেশা হিসেবে আধুনিক সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পেশা অর্থাৎ আধুনিক সমাজকর্মের বিকাশে শিল্পবিপ্লব একটি অনুঘটক বা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জটিল আর্থসামাজিক সমস্যার সৃষ্টি: শিল্পবিপ্লবের ফলে অতিমাত্রায় নগরায়ণ ঘটে এবং সনাতন যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙে একক পরিবারের সৃষ্টি হয়। শিল্পকারখানার কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা, মানসিক নিঃসঙ্গতা ও হতাশার মতো নতুন নতুন মানসিক ও সামাজিক সংকটের উৎপত্তি হয়। এই জটিল সমস্যাগুলো আধুনিক সমাজকর্মের কর্মক্ষেত্র তৈরি করে।
২. সনাতন সমাজকল্যাণের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ: শিল্পবিপ্লবের পূর্বে দানশীলতা, এতিমখানা বা ধর্মীয় আশ্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে অসহায়দের সাহায্য করা হতো। কিন্তু শিল্পবিপ্লবোত্তর সমাজের নানামুখী সংকট কেবল বস্তুগত সাহায্য দিয়ে সমাধানযোগ্য ছিল না। ফলে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, মনোসামাজিক অনুধাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষকে সাহায্য করার সমাজকর্ম দর্শনের বিকাশ ঘটে।
৩. চ্যারিটি ও সেটেলমেন্ট আন্দোলন: শিল্পবিপ্লবের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নগর ও বস্তিবাসীদের রক্ষা করতে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় দান সংগঠন সমিতি (COS) এবং সেটেলমেন্ট হাউস আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে পেশাদার সমাজকর্মের মাঠপর্যায়ের কাজের ভিত্তি স্থাপন করে।
৪. প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি: শিল্পবিপ্লবের সৃষ্ট জটিল সমাজ পরিচালনায় দক্ষ সমাজকর্মীর প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে সমাজকর্ম বিষয়ে শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
পরিশেষে বলা যায়, শিল্পবিপ্লব যদি আধুনিক সমাজকে বহুমুখী ও গভীর সংকটের মুখোমুখি না করত, তবে সমাজকর্ম একটি বিজ্ঞানভিত্তিক স্বতন্ত্র পেশা হিসেবে আজকের স্তরে বিকশিত হতে পারত না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও