‍ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো কিউবায় বিপ্লবী সরকার গঠন করেন। তিনি মেক্সিকো গিয়ে রাউল কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারাকে সঙ্গে নিয়ে বিপ্লবী দল গঠন করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন।

  1. ক)

    কত সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন সরকার গঠনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উক্ত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৮ সালে (৭ অক্টোবর) পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান কর্তৃক প্রবর্তিত সীমিত ভোটাধিকারভিত্তিক বিশেষ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে 'মৌলিক গণতন্ত্র' (Basic Democracy) বলা হয়। এ ব্যবস্থায় সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে সমগ্র পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার (পরবর্তীতে ১ লক্ষ ২০ হাজার) ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নির্বাচন করা হতো, যাদের বলা হতো 'মৌলিক গণতন্ত্রী'। কেবল এই নির্বাচিত সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের ভোটার হতে পারতেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল আইয়ুবের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্বাসনে থেকে বিপ্লবী দল গঠন ও মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনার সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে গঠিত 'মুজিবনগর সরকার' (বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার)-এর মিল রয়েছে।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ ভারতে গিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম) এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ এই বিপ্লবী সরকারের নেতৃত্ব দেন। উদ্দীপকের ফিদেল কাস্ত্রোর মতোই বিদেশি ভূখণ্ডে সংগঠন গুছিয়ে এই সরকার গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে শত্রুমুক্ত করার মূল দায়িত্ব পালন করেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুজিবনগর সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করতে অসামান্য অবদান রেখেছিল, তাই এই তৎপরতার ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

    মুজিবনগর সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বজনমত গঠন ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্কসহ প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক শহরে বাংলাদেশ মিশন খোলা হয়। বিশিষ্ট কূটনীতিক কে এম শিহাবুদ্দীন, মাহমুদ আলী, এবং পরবর্তীতে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বহির্বিশ্বে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার চিত্র তুলে ধরেন।

    এই কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই ভারত সর্বাত্মক সামরিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষে আসা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবগুলোতে ভেটো প্রদান করে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক বিরোধিতার মুখেও বাংলাদেশ অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন পায় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়। সুতরাং, উক্ত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলাফল বাস্তবিকই ছিল সুদূরপ্রসারী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন