ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
আব্দুস সামাদ এলাকার সব স্তরের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম নিযুক্ত হওয়ার পর এলাকার সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বলেন। এতে সমাজের এক শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি শত্রু হয়ে যান। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন।
- ক)(1)
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম কী?
- খ)(2)
হিলফুল ফুজুল বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহামানবের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পাঠ্যবইয়ের ঘটনা উত্ত মহাপুরুষের ও তাঁর প্রচারিত ধর্মের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাতার নাম আমিনা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হিলফুল ফুজুল' হলো একটি শান্তিসংঘ যা রক্তক্ষয়ী ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে যুব বয়সে হযরত মুহাম্মদ (স.) এবং কয়েকজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির উদ্যোগে মক্কায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্তপীড়িতের সেবা করা, অন্যায়-অত্যাচার রোধ করা, মজলুমকে সহায়তা করা এবং গোত্রীয় সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আব্দুস সামাদের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের মানবতার মহান শিক্ষক হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুওয়াত লাভের পূর্বে মক্কায় সবার কাছে অত্যন্ত সৎ, বিশ্বস্ত ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন এবং 'আল-আমিন' খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। কিন্তু নবুওয়াত প্রাপ্তির পর যখন তিনি মক্কার পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে একত্ববাদের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন, তখন কুরাইশরা তাঁর ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে আব্দুস সামাদ যেমন মসজিদের ইমাম হয়ে অনৈতিক কাজের বিরোধিতা করায় শত্রুতার শিকার হন, ঠিক তেমনি সত্যের প্রচারের কারণে মহানবি (স.)-ও মক্কার কাফেরদের চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাটি হলো হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত, যা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ঘটনা।
মক্কায় কুরাইশদের অসহনীয় নির্যাতন ও শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যার চক্রান্তের মুখে আল্লাহর নির্দেশে মহানবি (স.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন।
এই ঘটনাটি মহানবি (স.) ও তাঁর প্রচারিত ধর্মের জন্য বহু কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল:
১. ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষা: হিজরতের ফলে মুসলিমরা মক্কার অত্যাচার থেকে মুক্তি পায় এবং নিশ্চিহ্ন হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
২. মদিনা সনদ ও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: মদিনায় এসে মহানবি (স.) বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ' প্রণয়ন করেন এবং একটি আদর্শ ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলেন।
৩. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ইসলামের বিস্তার: মদিনার অনুকূল পরিবেশে ইসলাম শুধু একটি বিশ্বাসের রূপ পেরিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় আইনে পরিণত হয় এবং দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৪. হিজরি সনের প্রবর্তন: এই মহান ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে হিজরি সনের গণনা শুরু হয়।সুতরাং, হিজরত কেবল একজন মহামানবের দেশত্যাগ ছিল না; বরং তা ছিল নিপীড়িত ইসলামের বিজয়ের দিকে যাত্রার এক ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও