পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ভাষা আন্দোলনে সৃষ্ট ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক জাতীয়তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলা যায়। এই চেতনাই ছিল এদেশের সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রেরণা শক্তি। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী চেতনা।
- ক)(1)
'Natus' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
জাতি রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জাতি গঠনে ভাষার গুরুত্ব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট উল্লেখপূর্বক আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"বর্তমানে জাতি গঠনের উপাদান হিসেবে ধর্মের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে"- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ল্যাটিন শব্দ 'Natus'-এর অর্থ 'জন্ম' বা 'উৎপত্তি' (Born)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি রাষ্ট্র (Nation State) বলতে এমন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রকে বোঝায়, যা রাজনৈতিক চেতনা ও ঐক্যবদ্ধ জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগে উদ্বুদ্ধ কোনো জাতি নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করেছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় যখন একটি নির্দিষ্ট জাতির নিজস্ব সার্বভৌম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাকে জাতি রাষ্ট্র বলা হয়; যেমন—বাংলাদেশ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি গঠনে ভাষা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অপরিহার্য উপাদান। অভিন্ন ভাষা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আবেগীয় ঐক্য ও গভীর ভাবগত আদান-প্রদান সৃষ্টি করে, যা তাদের রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে প্রেরণা জোগায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতি গঠনে ভাষার ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী ও অনন্য। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলেও বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানিদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের শিকার হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে, তখন বাঙালিরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে।
এই রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন ধর্মভিত্তিক দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভুলকে উন্মোচিত করে বাঙালি ভাষাকেন্দ্রিক অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয়। ভাষার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই ঐক্য পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন বাঙালি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাষাই ছিল জাতি গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, "বর্তমানে জাতি গঠনের উপাদান হিসেবে ধর্মের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে"—এই বক্তব্যটির সাথে আমি একমত। নিচে এ বিষয়ে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো:
অতীতকালে ধর্ম ছিল মানুষ ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি অন্যতম প্রাথমিক মাধ্যম। তবে আধুনিক যুগে রাজনৈতিক সচেতনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশের ফলে জাতি গঠনে ধর্মের একক গুরুত্ব বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
প্রথমত, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে যে কেবল ধর্মের ভিত্তিতে একটি টেকসই জাতি গঠিত হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল অভিন্ন ধর্মের (ইসলাম) ভিত্তিতে। কিন্তু সেখানে ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকারবঞ্চনার কারণে ধর্মের বন্ধন ব্যর্থ হয় এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিতে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশ একই ধর্মের অনুসারী হলেও ভাষা, অঞ্চল ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা পৃথক পৃথক জাতি রাষ্ট্রে বিভক্ত।
দ্বিতীয়ত, আধুনিক বিশ্বায়ন ও মিশ্র সংস্কৃতির যুগে প্রতিটি দেশেই বহু ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থান দেখা যায়। বর্তমান জাতি রাষ্ট্রসমূহে ধর্মের চেয়ে ভৌগোলিক সীমারেখা, সংবিধান, অভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং সংস্কৃতির ঐক্যই জাতীয়তাবাদের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে। কানাডা, ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব ও সংবিধানিক আনুগত্যই জাতির পরিচয় নির্ধারণ করে, ধর্ম নয়।
অতএব, আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে অসাম্প্রদায়িকতা, সমঅধিকার ও নাগরিক জাতীয়তাবাদের উত্থানের ফলে জাতি গঠনের নির্ধারক উপাদান হিসেবে ধর্মের গুরুত্ব অতীতের তুলনায় অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও