‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই কৃতিত্ব সারা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের। কিন্তু এই কৃষকরা বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম পায় না। অথচ মধ্যস্বত্বভোগকারীরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই লাভবান হয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃষকরা লাভবান না হলে কৃষির অব্যাহত উন্নয়ন ধরে রাখা সম্ভব নয়।

  1. ক)

    কর্তব্য কী?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কৃষকরা কী ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত? তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষকদের উক্ত অধিকার রক্ষায় কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্তব্য হলো সমাজের সদস্য হিসেবে বা রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের করণীয় কাজকর্ম এবং নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক অধিকার বলতে রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সেইসব অপরিহার্য অধিকারকে বোঝায়, যা মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য একান্ত আবশ্যক। যেমন—বেঁচে থাকার অধিকার, বাকস্বাধীনতা, সাম্যের অধিকার ইত্যাদি। এই অধিকারগুলো রাষ্ট্র দ্বারা বলবৎযোগ্য এবং কোনো নাগরিক এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে আদালতের আশ্রয় নিতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কৃষকরা 'অর্থনৈতিক অধিকার' তথা তাদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত বা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত।

    নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকারের অন্যতম প্রধান দিক হলো কাজের উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও ন্যায্য মূল্য লাভ করা, যাতে নাগরিক দারিদ্র্যমুক্ত ও সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে। এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও বাজারে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পান না। বরং কোনো শ্রম বা ঝুঁকি ছাড়াই মধ্যস্বত্বভোগীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে কৃষকদের ঠকাচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা তাঁদের শ্রমের ন্যায্য প্রতিদান হিসেবে অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কৃষির সার্বিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষকদের ন্যায্য অধিকার (অর্থনৈতিক অধিকার) রক্ষায় বহুমুখী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: কৃষিবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
    ২. সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয়: সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে উপযুক্ত মূল্যে ধান, গম ও অন্যান্য ফসল ক্রয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা।
    ৩. উন্মুক্ত কৃষি বাজার বা কৃষক বাজার প্রতিষ্ঠা: কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় 'কৃষক বাজার' বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।
    ৪. হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা: পচনশীল ফসল সংরক্ষণের জন্য উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত হিমাগার ও গুদামজাতকরণ সুবিধা প্রদান করা, যাতে কৃষকরা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য না হন।
    ৫. সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও ভর্তুকি: কৃষকদের সার, বীজ ও সেচ সুবিধার ওপর প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়া এবং দালালমুক্ত সহজ শর্তে কৃষিঋণ নিশ্চিত করা।
    ৬. বাজার মনিটরিং ও সহায়ক মূল্য নির্ধারণ: সরকারের পক্ষ থেকে পণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ঘোষণা ও নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করা।

    উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব, যা কৃষির অব্যাহত উন্নয়ন ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন