সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
সাবিহা নুর একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। কিন্তু তৎকালীন সমাজে মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তার অদম্য ইচ্ছায় প্রথমে বড় ভাইয়ের ও পরবর্তীতে স্বামীর সহায়তায় পারিবারিক পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করেন। অতঃপর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ কাজে লাগিয়ে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- ক)(1)
সতীদাহ শব্দটির অর্থ কি?
- খ)(2)
সামাজিক আন্দোলন বলতে কী বুঝায় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাবিহা নূর এর কার্যক্রমের সাথে কোন সমাজ সংস্কারকের কার্যক্রম এর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সমাজ সংস্কারকের অবদান মুল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সতীদাহ' শব্দটির অর্থ হলো স্বামীর সাথে মৃত সহমরণে যাওয়া সতী বা সাধ্বী নারী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আন্দোলন হলো বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থার কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অংশ বা কুপ্রথা পরিবর্তন, দূরীকরণ কিংবা নতুন ইতিবাচক সামাজিক রূপান্তরের লক্ষ্যে জনগণের সংগঠিত ও ধারাবাহিক যৌথ প্রচেষ্টা। যেমন—বাল্যবিয়ে নিরোধ বা নারী শিক্ষার প্রসারে পরিচালিত আন্দোলন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাবিহা নূরের কার্যক্রমের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কার্যক্রমের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
বেগম রোকেয়াও একটি রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে বৈরী সামাজিক পরিবেশ সত্ত্বেও ভাই ও স্বামীর উৎসাহ-সহযোগিতায় শিক্ষা অর্জন করেছিলেন। পরবর্তীতে স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া অর্থে তিনি 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করে মুসলিম নারী শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন। উদ্দীপকের সাবিহা নূরের জীবনের সংগ্রাম ও স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বেগম রোকেয়ার এই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান অবিস্মরণীয় ও যুগান্তকারী। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যখন তৎকালীন মুসলিম সমাজ পর্দা প্রথার আড়ালে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে অবরুদ্ধ রাখত, তখন তিনি প্রথা ভাঙার সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালে কলকাতায় 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কেবল বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই করেননি, বরং পর্দা মেনে মুসলিম মেয়েদের স্কুলে আনার জন্য বিশেষ যাতায়াতের ব্যবস্থাও করেন। এছাড়া তিনি ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' (নিখিল ভারত মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষা ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম যেমন 'সুলতানার স্বপ্ন', 'অবরোধবাসিনী'-র মাধ্যমে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সুতরাং, নারী শিক্ষার পথপ্রদর্শক হিসেবে তাঁর অবদান অনন্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও