সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রুমানা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে ভর্তি হয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পর সমাজজীবনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে তারই প্রেক্ষাপটে সেটির উদ্ভব হয়েছে। আর এই বিষয়টি সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করে।
- ক)(1)
Logos শব্দটির অর্থ কী?
- খ)(2)
"সমাজবিজ্ঞান হলো মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে রুমানার পঠিত বিষয়ের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত বিষয়টি পাঠের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Logos (লগোস) শব্দটির অর্থ হলো জ্ঞান (Knowledge) বা অধ্যয়ন/বিজ্ঞান (Study/Science)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সমাজবিজ্ঞান হলো একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান"— এর অর্থ হলো সমাজবিজ্ঞান সমাজকে যেমন, ঠিক সেভাবেই বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে; এটি কী হওয়া উচিত বা উচিত নয় সে বিষয়ে নিজস্ব নীতিগত রায় দেয় না। সমাজবিজ্ঞানী কোনো সামাজিক ঘটনা বা প্রথাকে ভালো বা মন্দ হিসেবে বিচার না করে নিরপেক্ষভাবে তার কারণ, প্রভাব ও কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান করেন। অর্থাৎ, এতে গবেষকের ব্যক্তিগত আবেগ বা নৈতিক মূল্যবোধের প্রভাব থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে রুমানার পঠিত বিষয়টি হলো 'সমাজবিজ্ঞান' (Sociology)।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব ও ফরাসি বিপ্লবের পর সমাজজীবনে যে বিশাল রূপান্তর ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে ১৮৩৯ সালে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁত সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির উদ্ভব ঘটান। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সামগ্রিকভাবে মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা করে।
সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি হলো—
১. এটি একটি সামাজিক বিজ্ঞান, কোনো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নয়।
২. এটি সমাজের সামগ্রিক পাঠ দেয় এবং কোনো নির্দিষ্ট অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
৩. এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ ও মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান, যা কার্যকারণ সম্পর্ক উদঘাটন করে।
৪. এটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের অনুসন্ধানে নিয়োজিত। উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো সমাজবিজ্ঞানের এই সামগ্রিক ও সুনির্দিষ্ট প্রকৃতিকেই তুলে ধরে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রুমানার পঠিত বিষয় অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব মানবজীবনে ও সমাজ পরিচালনায় অত্যন্ত অপরিসীম।
প্রথমত, সমাজের সঠিক স্বরূপ ও সামাজিক সম্পর্ক সম্পর্কে জানার জন্য সমাজবিজ্ঞান অপরিহার্য। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব, তাই সমাজবিজ্ঞানের মাধ্যমে সমাজের উদ্ভব, ক্রমবিকাশ এবং সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করা যায়।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক সমস্যাবলি চিহ্নিতকরণ এবং সেগুলোর বিজ্ঞানসম্মত সমাধান খুঁজে পেতে সমাজবিজ্ঞান দিকনির্দেশনা প্রদান করে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণতা ইত্যাদি সমস্যার গভীর কারণ উদঘাটন সমাজবিজ্ঞানের মাধ্যমেই সম্ভব।
তৃতীয়ত, সামাজিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি অনুধাবন করতে এ পাঠ অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক বিশ্বে সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে; এই পরিবর্তনের প্রভাব সমাজে কীভাবে পড়ছে তা সমাজবিজ্ঞান বিশ্লেষণ করে।
চতুর্থত, সামাজিক পরিকল্পনা ও জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে নীতিনির্ধারকদেরকে কার্যকর তথ্য ও দিকনির্দেশনা সমাজবিজ্ঞানই সরবরাহ করে থাকে।
অতএব, একটি সুশৃঙ্খল, প্রগতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও