বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্য-১: কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা মিলে সকলের স্বার্থ সংরক্ষণে 'শতাব্দী' নামক সংগঠন গড়ে তোলে। কিন্তু 'ক' ও 'খ' দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি।দৃশ্য-২: জনাব সোহেল আরকানের মুসলমানদের উপর হামলার খবর বহির্বিশ্বকে অবগত করে। মুক্তি নামক সাংস্কৃতিক সংগঠন গান গেয়ে আরকানের মুসলমানদের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টি করে।

  1. ক)

    বজ্রকণ্ঠ কী?

    (1)
  2. খ)

    ঢাকা শহর কেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্য-১ এর 'শতাব্দী' সংগঠনটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে উজ্জীবিত রাখতে দৃশ্য-২ এর ব্যক্তি ও সংগঠনের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তা 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়।

  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকায় নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায় নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয় এবং বহু ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কারফিউ ও সেনা-টহলের ভয়ে মানুষ শহর ছেড়ে পালাতে থাকে। ফলে ঢাকা শহর লাশ ও আতঙ্কের এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।

  3. গ)

    দৃশ্য-১-এর ‘শতাব্দী’ সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাতিসংঘ (UN)-কে নির্দেশ করছে।

    জাতিসংঘ গঠিত হয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ ও বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা এবং ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হলেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মতভেদ ও ভেটোর কারণে জাতিসংঘ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। উদ্দীপকে ‘ক’ ও ‘খ’ দেশের সংঘাতে সংগঠনটির ব্যর্থতার সঙ্গে এটি মিলে যায়।

  4. ঘ)

    উক্তিটি যথার্থ। দৃশ্য-২-এর জনাব সোহেল ও ‘মুক্তি’ সংগঠনের মতো ব্যক্তি ও সংগঠন মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রামী জনতাকে উজ্জীবিত রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছিল।

    ১. সংবাদমাধ্যম: সোহেল যেমন আরাকানের মুসলমানদের ওপর হামলার খবর বহির্বিশ্বকে জানান, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকরা ও বিদেশি গণমাধ্যম গণহত্যার খবর বিশ্বে ছড়িয়ে জনমত গড়ে তুলেছিল।
    ২. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: এটি দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান ও সংবাদ প্রচার করে মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণকে সাহস জুগিয়েছিল।
    ৩. সাংস্কৃতিক সংগঠন: ‘মুক্তি’ সংগঠনের গানের মতো সে সময়ও শিল্পীরা গান, নাটক ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

    সুতরাং, তথ্য ও সংস্কৃতির এই ভূমিকা সংগ্রামী জনতাকে উজ্জীবিত রাখতে অপরিহার্য ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন