ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
শীতের রাতে রফিক বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় ড্রেনের পাশে জটলা দেখে এগিয়ে গেল। দেখলো ড্রেনে একটি কুকুরের বাচ্চা পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। বাচ্চাটি উপরে ওঠার চেষ্টা করছে, আর ছেলেগুলো লাঠি দিয়ে খোঁচা মেরে নিচে ফেলে দিচ্ছে। রফিক ড্রেনে নেমে কুকুর ছানাটিকে তুলে রাস্তায় ছেড়ে দিল এবং ছেলেগুলোকে এরূপ কাজ করতে বারণ করল।
- ক)(1)
ইলম' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'জীবে দয়া করে যেজন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে রফিকের কাজটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কুকুর ছানার সাথে ছেলেগুলোর আচরণ কি যথাযথ? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ইলম' (علم) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ জ্ঞান, জানা, অবগত হওয়া বা বিদ্যা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটির মূল ভাবার্থ হলো—সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে ভালোবাসা এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমেই মূলত সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন করা যায়।
আল্লাহ তায়ালা জগতের সকল সৃষ্টির পালনকর্তা। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হলেও অন্যান্য জীবজন্তু ও প্রাণীর প্রতি সদয় আচরণ করা মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। ইসলামেও বলা হয়েছে, "তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন" (তিরমিজি)। তাই কোনো জীবের কষ্ট দূর করা বা সেবা করা প্রকারান্তরে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশেরই নামান্তর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রফিকের কাজটি ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সৃষ্টির সেবা ও জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
ইসলামে শুধু মানুষের প্রতি নয়, বরং অবলা পশুপাখির প্রতিও দয়া ও সহানুভূতিশীল আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিটি জীবের প্রতি সদয় আচরণের মধ্যে সওয়াব রয়েছে। হাদিসে এক পাপিষ্ঠ ব্যক্তির তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে পাপমোচন ও জান্নাত লাভের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ড্রেনে পড়ে হাবুডুবু খাওয়া একটি অসহায় কুকুরের বাচ্চাকে রফিক নিজে নেমে উদ্ধার করে এবং নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেয়। তার এই নিঃস্বার্থ ও মানবিক আচরণটি ইসলামের 'খিদমাতুল খালক্ব' বা সৃষ্টির সেবার শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, কুকুর ছানার সাথে ছেলেগুলোর আচরণ মোটেও যথাযথ নয়; বরং তা অত্যন্ত অমানবিক ও ইসলামি শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ইসলামে বিনা প্রয়োজনে কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন করা বা তাদের নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করা কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে কষ্ট দেওয়া যাবে না। অপর এক হাদিসে এসেছে, এক নারী একটি বিড়ালকে আটকে রেখে না খাইয়ে মেরে ফেলার কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। সুতরাং নিরীহ কোনো জীবকে কষ্ট দেওয়া কবিরা গুনাহের শামিল।
উদ্দীপকে ছেলেগুলো ড্রেনে পড়া বিপদগ্রস্ত একটি অসহায় কুকুরের বাচ্চাকে লাঠি দিয়ে খোঁচা মেরে নিচে ফেলে দিয়ে আনন্দ পাচ্ছিল। তাদের এই নিষ্ঠুর ও বিবেকহীন আচরণ কোনো বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না। ইসলাম যে সহানুভূতি ও মানবতার শিক্ষা দেয়, তা ছেলেগুলোর আচরণে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। অতএব, তাদের এই আচরণ অন্যায় ও পরিত্যাজ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও