গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রতিবছর আমাদের জান ও মালের অনেক ক্ষতিসাধন হয়। মূলত পরিবেশ দূষণই এর প্রধান কারণ। মানুষ বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। শুধু সরকার নয় জনগণকেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।
- ক)(1)
দুর্যোগ কাকে বলে?
- খ)(2)
উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো কী ধরনের দূষণ—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
পরিবেশ দূষণের কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে শেষের বাক্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুর্যোগ হলো এমন এক আকস্মিক চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা, যা জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো শব্দ দূষণের অন্তর্ভুক্ত। যখন অতিরিক্ত মাত্রার ও কর্কশ কোনো শব্দ মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে শব্দ দূষণ বলে। উচ্চ শব্দে মাইক বাজালে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, রক্তচাপ বাড়ে, অনিদ্রা ও মাথা ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণগুলো হলো:
১. অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন: কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া বায়ু দূষণ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য নদী-নালা ও জলাশয়ে পড়ে পানি দূষণ ঘটায়।
২. যানবাহনের ধোঁয়া ও হর্ন: মাত্রাতিরিক্ত কালো ধোঁয়া ও তীব্র হর্ন ব্যবহারের কারণে বায়ু ও শব্দ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে।
৩. বন উজাড় ও বৃক্ষনিধন: বনভূমি ধ্বংসের ফলে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে।
৪. অপচনশীল বর্জ্য ফেলা: পলিথিন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য গৃহস্থালি বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলার ফলে মাটি ও পানি দূষিত হচ্ছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো—"শুধু সরকার নয় জনগণকেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে"। বাক্যটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা একটি বিশাল ও বহুমুখী কর্মযজ্ঞ। সরকারের একার পক্ষে দুর্যোগের প্রস্তুতি, পূর্বাভাস প্রদান, উদ্ধারকাজ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় যদি না সাধারণ জনগণ তাতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে। দুর্যোগের মূল কারণ পরিবেশ দূষণ রোধে জনগণকে পরিবেশবান্ধব আচরণ করতে হবে, যেমন—গাছ লাগানো, নদী-নালা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন হওয়া। এছাড়া দুর্যোগের সময় সরকারি দিকনির্দেশনা ও সংকেত মেনে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া এবং প্রতিবেশী ও বিপন্ন মানুষের সাহায্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা জরুরি। তাই সরকারি পদক্ষেপের সাথে জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ যুক্ত হলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও