গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
হেলেনার উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশি হওয়ায় সে রাতে না খেয়ে থাকে। এতে তার ওজন কমে না বরং সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। হেলেনা ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার বলেন, শারীরিক কার্যকলাপের ওপর শক্তি ব্যয় নির্ভর করে। তিনি আরো বলেন, শক্তি চাহিদা লিঙ্গ, বয়স ও শারীরিক অবস্থভেদে ভিন্ন হয়।
- ক)(1)
মৌল বিপাক হার কাকে বলে?
- খ)(2)
ক্যালরি হলো তাপশক্তি মাপার একক- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শক্তি ব্যয় কিসের উপর নির্ভর করে, উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ডাক্তার সাহেবের শেষের উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে থাকা অবস্থায় স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস ইত্যাদির মতো জীবনধারণের অত্যাবশ্যকীয় অভ্যন্তরীণ জৈবিক কার্যাবলি পরিচালনার জন্য যে ন্যূনতম শক্তি ব্যয় হয়, তাকে মৌল বিপাক হার (BMR) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য গ্রহণের পর তা বিপাকের মাধ্যমে দেহে যে শক্তি উৎপন্ন করে, তা মূলত তাপশক্তি হিসেবে পরিমাপ করা হয়। ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপশক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ১ ক্যালরি বলে। পুষ্টিবিজ্ঞানে বৃহত্তর একক হিসেবে কিলোক্যালরি (১ কিলোক্যালরি = ১০০০ ক্যালরি) ব্যবহৃত হয়, যাকে সংক্ষেপে খাদ্য ক্যালরি বলা হয়। সুতরাং, খাদ্য থেকে প্রাপ্ত শক্তি ও দেহের ব্যয়িত শক্তি তাপ আকারে পরিমাপ করা হয় বলে ক্যালরিকে তাপশক্তি মাপার একক বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ডাক্তারের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের শক্তি ব্যয় প্রধানত তার শারীরিক কার্যকলাপ এবং জীবনযাপনের ধরনের ওপর নির্ভর করে।
দৈনন্দিন জীবনে শক্তির প্রধানতম অংশ ব্যয় হয় তিনটি ক্ষেত্রে: মৌল বিপাকীয় কাজ, খাদ্যের তাপীয় প্রভাব এবং শারীরিক কার্যকলাপ বা পেশির কাজ। এর মধ্যে শারীরিক কার্যকলাপই সবচেয়ে পরিবর্তনশীল উপাদান। হালকা পরিশ্রমী (যেমন—বসে কাজ করা), মাঝারি পরিশ্রমী (যেমন—গৃহস্থালির কাজ বা হাঁটাচলা) এবং ভারী পরিশ্রমী (যেমন—কৃষিকাজ বা কায়িক শ্রম) ব্যক্তির ক্ষেত্রে শক্তি ব্যয়ের পরিমাণ ভিন্ন হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হেলেনা ওজন কমানোর জন্য রাতে না খেয়ে থাকে কিন্তু কায়িক পরিশ্রম বা নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ায়নি। না খেয়ে থাকার ফলে দেহের বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। ডাক্তার তাকে স্মরণ করিয়ে দেন যে খাবার বর্জন নয়, বরং শারীরিক কার্যকলাপ ও সক্রিয়তার মাধ্যমেই শক্তি ব্যয় নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ খাদ্য গ্রহণের পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানোই শক্তি ব্যয়ের মূল চাবিকাঠি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ডাক্তারের শেষের উক্তিটি হলো—"শক্তি চাহিদা লিঙ্গ, বয়স ও শারীরিক অবস্থভেদে ভিন্ন হয়।" উক্তিটি পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ ও বিজ্ঞানসম্মত।
বিভিন্ন কারণে মানুষের শক্তি চাহিদায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়:
১. লিঙ্গভেদ: সাধারণত পুরুষদের শরীরে পেশিবহুল টিস্যুর পরিমাণ বেশি এবং ফ্যাট টিস্যু কম থাকে। ফলে নারীদের তুলনায় পুরুষদের মৌল বিপাক হার (BMR) বেশি থাকে এবং তাদের শক্তির চাহিদাও বেশি হয়।
২. বয়সভেদ: বয়সের সঙ্গে শক্তি চাহিদার পরিবর্তন ঘটে। শৈশব, বাল্যকাল ও কৈশোরে দেহের দ্রুত বৃদ্ধি ও গঠনের কারণে প্রতি কেজি দৈহিক ওজনে শক্তির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে (বিশেষত প্রৌঢ় ও বার্ধক্যে) দৈহিক কার্যকলাপ ও বিপাকের হার কমে যাওয়ায় শক্তি চাহিদাও হ্রাস পায়।
৩. শারীরিক অবস্থা: বিশেষ শারীরিক অবস্থায় পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। যেমন—গর্ভবতী নারীদের গর্ভস্থ ভ্রূণের বিকাশ ও মাতৃদেহের অতিরিক্ত পরিবর্তনের জন্য এবং স্তন্যদাত্রী মায়েদের বুকের দুধ উৎপাদনের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি বা শক্তির প্রয়োজন হয়। এছাড়াও অসুস্থতা, অপারেশনের পর বা রোগমুক্তির সময়েও শক্তি চাহিদায় তারতম্য ঘটে।উদ্দীপকে হেলেনা তার নিজের নির্দিষ্ট বয়স, শারীরিক অবস্থা ও চাহিদাকে বিবেচনায় না নিয়ে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে উপোস করে ওজন কমানোর চেষ্টা করছিল, যার ফলে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। ডাক্তার যথার্থই নির্দেশ করেছেন যে পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা সবার জন্য এক নয়; এটি লিঙ্গ, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পৃথকভাবে নির্ধারণ করতে হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও