ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রফেসর শাফায়েত শ্রেণিকক্ষে একটি আয়াত তিলাওয়াত করে ব্যাখ্যা করলেন। আয়াত : “খাতামাল্লাহু আলা কুলুবিহীম ওআলা সামইহিম ওআলা আবছরিহিম গিশাঅতুন অলাহুম আযাবুন আজীম।” এখানে স্রষ্টার প্রতি আস্থাহীনদের পরিণতি ব্যক্ত হয়েছে।
- ক)(1)
‘গায়েব’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“ওয়া মিম্ মা রযাকনাহুম ইউনফিকুন” – অর্থ কী? লেখ ।
- গ)(3)
“খাতামাল্লাহু আলা কুলুবিহীম” দ্বারা কাদেরকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আয়াতে বর্ণিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের করুণ পরিণতি
বর্ণনা কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গায়েব' শব্দের অর্থ হলো অদৃশ্য, অদৃশ্যক বিষয় বা যা মানব ইন্দ্রিয়ের অগোচরে থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ওয়া মিম্ মা রযাকনাহুম ইউনফিকুন” (وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ) আয়াতাংশের অর্থ হলো: "এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।"
এখানে মুত্তাকি বা প্রকৃত মুমিনদের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তারা মহান আল্লাহর দেওয়া ধন-সম্পদ ও জীবিকা থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে গরিব-অসহায়দের দান করে এবং সৎকাজে ব্যয় করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“খাতামাল্লাহু আলা কুলুবিহীম” (আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন) দ্বারা মূলত চরম পর্যায়ের কাফির, অবিশ্বাসী এবং সত্য অস্বীকারকারীদের বোঝানো হয়েছে।
সূরা বাকারার এই আয়াতে সেই সমস্ত লোকের কথা বলা হয়েছে, যারা চরম অহংকার, একগুঁয়েমি ও বিদ্বেষের কারণে সত্যকে সুস্পষ্ট জানার পরও তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। নবী করিম (সা.)-এর দাওয়াত ও অলৌকিক নিদর্শন অবলোকন করার পরও যখন তারা কোনোভাবেই ইমান আনে না এবং ক্রমাগত কুফরি ও সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত থাকে, তখন আল্লাহ শাস্তি হিসেবে তাদের অন্তরের সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা কেড়ে নেন এবং তাতে মোহর এঁটে দেন। ফলে হেদায়েতের বাণী তাদের অন্তরে আর কোনো প্রভাব ফেলে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আয়াতে বর্ণিত ব্যক্তিরা হলো সত্যত্যাগী, চরম কাফির ও পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়, যাদের হৃদয়, কান ও চোখের ওপর মোহর ও পর্দা ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের করুণ পরিণতি নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. হেদায়েত লাভের পথ চিরতরে রুদ্ধ: তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়ায় এবং শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সত্য গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় তারা ইহকালে আর কখনোই সত্য পথের দিশা বা হেদায়েত পাবে না।
২. আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব: চোখের ওপর পর্দা থাকায় তারা আল্লাহর কুদরত ও মহাবিশ্বের নিদর্শন দেখেও উপলব্ধি করতে অক্ষম হয় এবং পাপাচারেই লিপ্ত থাকে।
৩. মহা শাস্তি ভোগ (আযাবুন আজীম): আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, "অলাহুম আযাবুন আজীম" অর্থাৎ তাদের জন্য রয়েছে মহা কঠিন শাস্তি। পরকালে জাহান্নামের চিরস্থায়ী ও ভয়াবহ আগুনে তাদের পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া হবে।সুতরাং, সত্যকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাখ্যান করার ফলস্বরূপ তারা ইহকালে পথভ্রষ্টতার গ্লানি এবং পরকালে জাহান্নামের অনন্ত ও ভয়াবহ শাস্তির শিকার হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও