সমাজকর্ম ২য় পত্র • সরকারি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রামের মেয়ে শিমু সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে সরকারি কর্মসূচির ভাওতায় সুদমুক্ত ঋণে সেলাই মেশিন ক্রয় করেছে। বাড়িতে বসে জামাকাপড় তৈরি করে সে বিভিন্ন দোকানে এগুলো সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে সে জীবিকা নির্বাহ করে।
- ক)(1)
UNICEF এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
হাসপাতাল সমাজসেবা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত কর্মসূচি কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচির সীমাবদ্ধতাসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো 'United Nations International Children's Emergency Fund' (বর্তমানে এর দাপ্তরিক নাম United Nations Children's Fund)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাসপাতাল সমাজসেবা বলতে চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সমাজকর্ম পদ্ধতিকে বোঝায়, যা মূলত দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ রোগীদের সার্বিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তাদের সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। ১৯৫৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম এ কার্যক্রম শুরু হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত কর্মসূচিটি হলো সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত 'পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম' (Rural Social Services - RSS)।
পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা অর্জন। এর আওতায় দরিদ্র ও অনগ্রসর মানুষদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়, যাতে তারা উৎপাদনশীল কাজে অংশ নিয়ে আয় বাড়াতে পারে। উদ্দীপকে গ্রামের মেয়ে শিমু সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে সরকারি কর্মসূচির আওতায় সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণ করে সেলাই মেশিন ক্রয় করে এবং ঘরে বসেই পোশাক তৈরি ও বিপণনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রশিক্ষণ ও সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের স্বনির্ভর করার এই বৈশিষ্ট্যটি পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম (RSS) গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর কিছু উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
১. ঋণের অপ্রতুলতা: চাহিদার তুলনায় সুদমুক্ত ঋণের বরাদ্দের পরিমাণ খুবই কম, যা দিয়ে আধুনিক ও বড় আকারের আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ পরিচালনা সম্ভব হয় না।
২. প্রশিক্ষণের আধুনিকতার অভাব: প্রদত্ত প্রশিক্ষণগুলো মূলত সনাতনী দক্ষতার (যেমন: সেলাই, হাঁস-মুরগি পালন ইত্যাদি) মধ্যেই সীমাবদ্ধ; যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বা উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ কম।
৩. পর্যাপ্ত তদারকির অভাব: জনবল সংকটের কারণে ঋণগ্রহীতাদের কাজের সুষ্ঠু নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ফলো-আপ সম্ভব হয় না, ফলে অনেক সময় ঋণের অপব্যবহার ঘটে।
৪. ঋণ আদায়ে শিথিলতা: সুদমুক্ত বা নামমাত্র সার্ভিস চার্জ থাকায় অনেক সময় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে সময়মতো ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
৫. বিপণন সুবিধার অভাব: উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ন্যায্যমূল্যে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়ী বিপণন ব্যবস্থা বা চেইন গড়ে ওঠেনি, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকেই যায়।সুতরাং, উল্লিখিত সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের মান বৃদ্ধি করা গেলে এই কর্মসূচি দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও