‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

শিক্ষক মোঃ আমান উল্লাহ ক্লাসে খুব ভাল পড়ান। তিনি অন্যকে যে কোন বিষয় সুন্দর এবং সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন। একদিন তিনি ক্লাসে রাষ্ট্রের গঠন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে সরকারের তিনটি বিভাগের কথা উল্লেখ করেন। যার মধ্যে একটি বিভাগ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এবং অন্য দুটি বিভাগের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন সরকারের অপরিহার্য তিনটি বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের পরিপূর্ণতা ফুটে উঠে।

  1. ক)

    সংসদীয় ব্যবস্থার সরকার প্রধান কে?

    (1)
  2. খ)

    সংসদীয় শাসনব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    মোঃ আমান উল্লাহ স্যারের বক্তব্যে সরকারের যে বিভাগের কথা উঠে এসেছে তার গঠনপ্রণালী আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সরকারের পরিপূর্ণতা শীর্ষক মোঃ আমান উল্লাহ স্যারের বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংসদীয় ব্যবস্থার সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তার সমস্ত কাজকর্ম ও নীতির জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকে, তাকে সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার বলা হয়। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান (যেমন রাষ্ট্রপতি) নামমাত্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রকৃত শাসনক্ষমতা পরিচালিত হয় প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার মাধ্যমে। আইনসভার আস্থা হারালে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোঃ আমান উল্লাহ স্যারের বক্তব্যে সরকারের আইন বিভাগের কথা উঠে এসেছে। নিচে এর গঠনপ্রণালী আলোচনা করা হলো:

    উদ্দীপকে শিক্ষক উল্লেখ করেছেন যে সরকারের একটি বিভাগ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এবং তা অন্য দুটি বিভাগের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। সরকারের এই বিভাগটি হলো আইনসভা বা আইন বিভাগ।

    আইন বিভাগ মূলত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে এটি এককক্ষবিশিষ্ট (যেমন— বাংলাদেশ) বা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (যেমন— ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র) হতে পারে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় সাধারণত একটি নিম্নকক্ষ এবং একটি উচ্চকক্ষ থাকে। নিম্নকক্ষের সদস্যরা সাধারণত প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং উচ্চকক্ষের সদস্যরা পরোক্ষ নির্বাচন, মনোনয়ন বা উত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত হয়। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট, যা ৩০০ জন প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ৫০ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। আইনসভার প্রধান কাজ হলো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের সংশোধন বা বাতিল করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকারের অপরিহার্য তিনটি বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের পরিপূর্ণতা ফুটে উঠে— শিক্ষক মোঃ আমান উল্লাহ স্যারের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

    আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের তিনটি অপরিহার্য অঙ্গ রয়েছে— আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এই তিনটি বিভাগের কাজ ভিন্ন হলেও রাষ্ট্রের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় এদের পারস্পরিক সমন্বয় অপরিহার্য।

    আইন বিভাগ দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সার্বিক প্রশাসন পরিচালনা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক নীতি বাস্তবায়ন করে। বিচার বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে বিরোধের মীমাংসা করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করে এবং সংবিধান ও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে।

    এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and Balances) বজায় না থাকলে সরকারের কাজে একনায়কতন্ত্র সৃষ্টি হতে পারে। আইন বিভাগ ছাড়া রাষ্ট্র দিকনির্দেশনাহীন, শাসন বিভাগ ছাড়া আইন কেবল কাগজের দলিল এবং বিচার বিভাগ ছাড়া শাসন বিভাগ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থায়িত্ব, নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ ও সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই তিন বিভাগের সুসমন্বিত ভূমিকা অনস্বীকার্য। সুতরাং, আমান উল্লাহ স্যারের বক্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন