সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    কৃষির উৎপত্তি হয়েছিল কোন যুগে?

    (1)
  2. খ)

    শালবন বিহার- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছক-১-এ বর্ণিত যুগের সমাজজীবন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক-২-এ বর্ণিত যুগের আবিষ্কারসমূহ সমাজ পরিবর্তনে কীভাবে ভূমিকা রাখে? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নব্যপ্রস্তর যুগ বা নবোপলীয় যুগে কৃষির উৎপত্তি হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শালবন বিহার হলো বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার ময়নামতীতে অবস্থিত একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

    অষ্টম শতকের দিকে দেব বংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এটি নির্মাণ করেন। বিহারটি ছিল মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধর্মীয় শিক্ষা ও সাধনার কেন্দ্র। এর মূল কাঠামোর মধ্যে রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মন্দির এবং একে ঘিরে সন্ন্যাসীদের বসবাসের জন্য ১১৫টি কক্ষ। এটি প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ সংস্কৃতি, স্থাপত্যবিদ্যা ও উন্নত জ্ঞানচর্চার অনন্য স্মারক বহন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-১-এ ভোঁতা ও অমসৃণ হাতিয়ারের ব্যবহার, খাদ্যের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা ও যাযাবর জীবনের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে 'প্রাচীন প্রস্তর যুগ' (Paleolithic Age)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

    প্রাচীন প্রস্তর যুগের সমাজজীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১. খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক অর্থনীতি: এ যুগের মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে জানত না। ফলমূল সংগ্রহ এবং পশু শিকারই ছিল তাদের জীবিকার একমাত্র উপায়। মানুষ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল।
    ২. যাযাবর জীবন ও দলবদ্ধতা: খাদ্যের সন্ধানে মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতে হতো। হিংস্র বন্য পশুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য তারা দলবদ্ধ হয়ে বসবাস ও শিকার করত।
    ৩. গুহাবাস ও হাতিয়ারের ব্যবহার: আত্মরক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে মানুষ পাহাড়ের গুহায় বাস করত। এ যুগে ব্যবহৃত পাথরের হাতিয়ারগুলো ছিল ভোঁতা, ভারী এবং অমসৃণ।
    ৪. শ্রমবিভাজন ও সামাজিক বন্ধন: শিকারের ক্ষেত্রে পুরুষেরা নেতৃত্ব দিত এবং নারীরা ফলমূল সংগ্রহ ও সন্তান লালন-পালন করত। এ যুগে রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রাথমিক সামাজিক বন্ধন বা গোত্র গড়ে ওঠে এবং প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির প্রতি ভীতি থেকে যাদুবিশ্বাস ও ধর্মীয় ধারণার সূচনা ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-২-এ ধারালো ও মসৃণ হাতিয়ার, কৃষি উৎপাদনের সূচনা ও স্থায়ী বসতির বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মানব ইতিহাসের 'নব্যপ্রস্তর যুগ' (Neolithic Age)-কে নির্দেশ করা হয়েছে। এ যুগের আবিষ্কারসমূহ সমাজ পরিবর্তনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।

    নব্যপ্রস্তর যুগকে মানব সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর বলা হয়। সমাজ পরিবর্তনে এ যুগের আবিষ্কারসমূহের ভূমিকা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. কৃষি বিপ্লব ও স্থায়ী বসতি: এ যুগে কৃষিকাজের আবিষ্কার মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। মানুষ খাদ্য সংগ্রাহক থেকে খাদ্য উৎপাদকে পরিণত হয়। কৃষিকাজ ও ফসল সংরক্ষণের তাগিদে নদীর তীরে প্রথম স্থায়ী মানব বসতি ও গ্রাম গড়ে ওঠে, যা যাযাবর জীবনের অবসান ঘটায়।
    ২. হাতিয়ারের আধুনিকায়ন: ভোঁতা পাথরের পরিবর্তে মানুষ মসৃণ, ধারালো ও কাজের উপযোগী বিভিন্ন হাতিয়ার (যেমন: কুঠার, বাটালি, কাস্তে) তৈরি করতে শেখে, যা উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
    ৩. চাকার আবিষ্কার: এ যুগে চাকার আবিষ্কার যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটায়। এর ফলে মালামাল পরিবহন সহজ হয় এবং কুমারের চাকা ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই মাটির পাত্র তৈরির বিকাশ ঘটে।
    ৪. উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও বিনিময় প্রথা: কৃষির বিকাশের ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য বা উদ্বৃত্ত উৎপাদন হতে থাকে। এর ফলে শ্রমবিভাজন সৃষ্টি হয় এবং পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বা আদিম ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপরেখা সূচিত হয়।
    ৫. পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণা: স্থায়ী বসতির সাথে সাথে পরিবার প্রথা সুসংগঠিত হয় এবং ভূমিসহ উৎপাদিত ফসলের ওপর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানার সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীকালে শ্রেণিভিত্তিক সমাজের জন্ম দেয়।

    পরিশেষে বলা যায়, নব্যপ্রস্তর যুগের কৃষি, চাকা এবং ধারালো হাতিয়ারের মতো আবিষ্কারগুলো মানবসমাজকে আদিম অবস্থা থেকে স্থায়ী, উৎপাদনমুখী ও সভ্যতার দিকে ধাবিত করার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন