সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে পড়াশোনা করছে তার মূল আলোচ্য বিষয় 'সমাজ'। বিষয়টিতে সমাজের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ছাড়াও সমাজের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ বিষয়টি অধ্যয়নের ফলে রনি সমাজকে সহজে বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে পারছে। এতে সে খুব আনন্দ পায়। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিষয়টির পঠন-পাঠন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। এক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছিল রনি তাদের অবদানকে স্মরণ করে।

  1. ক)

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায় ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রনির পঠিত বিষয়টির বাংলাদেশে বিকাশের ধারা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির জ্ঞান সমাজ পাঠে কীভাবে ভূমিকা রাখবে বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology) হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা প্রাচীনকালের মানুষের ব্যবহৃত বস্তুগত নিদর্শন, হাতিয়ার, তৈজসপত্র, জীবাশ্ম এবং ধ্বংসাবশেষ খনন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাগৈতিহাসিক ও অতীত মানবসমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাস পুনর্নির্মাণ ও অধ্যয়ন করে। গ্রিক শব্দ ‘arkhaios’ (প্রাচীন) ও ‘logos’ (জ্ঞান/তত্ত্ব) থেকে প্রত্নতত্ত্ব শব্দের উৎপত্তি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রনির পঠিত বিষয়টির নাম সমাজবিজ্ঞান (Sociology), কারণ এর মূল আলোচ্য বিষয় সমাজ এবং বাংলাদেশে ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর প্রাতিষ্ঠানিক পঠন-পাঠন শুরু হয়।

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের সূচনা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। ১৯৫৭ সালে অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি-স্ট্রসের সহযোগিতায় ইউনেস্কোর সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ড. এ কে নাজমুল করিমকে ‘বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের জনক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসমূহে সমাজবিজ্ঞান পঠন-পাঠন শুরু হয় এবং জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক গবেষণায় এর বিকাশ ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি সমাজ পাঠ ও অনুধাবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

    সমাজবিজ্ঞান এমন একটি সামগ্রিক বিজ্ঞান যা সমাজের গঠন, কাঠামো, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- পরিবার, বিবাহ, রাষ্ট্র, ধর্ম), সামাজিক পরিবর্তন এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করে। সমাজ পাঠের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান নিম্নোক্তভাবে ভূমিকা রাখে:
    ১. সমাজের সামগ্রিক রূপ অনুধাবন: সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান মানুষকে সমাজের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং এর মৌলিক উপাদানসমূহ সঠিকভাবে জানতে সাহায্য করে।
    ২. সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান: দারিদ্র্য, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বেকারত্ব, অপরাধপ্রবণতা ইত্যাদি সামাজিক সমস্যার পেছনের কারণ উদঘাটন এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সমাজবিজ্ঞান দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
    ৩. সামাজিক গতিশীলতা ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ: আধুনিকায়ন, শিল্পায়ন এবং নগরায়নের ফলে সমাজে কীভাবে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে তা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিশ্লেষণ করতে শেখায়।
    ৪. পরমতসহিষ্ণুতা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি: বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী ও সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য জানার মাধ্যমে এটি সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সুনাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে।

    সুতরাং, সমাজকে সঠিকভাবে বুঝতে, সামাজিক বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে এবং একটি পরিকল্পিত ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন