পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয় • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে সুহানের বাড়িঘর ডুবে যায়। সে বছর তার পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। সর্বস্বান্ত হয়ে তার পরিবার সীমাহীন দুর্দশাই পতিত হয়।
- ক)(1)
বঙ্গভঙ্গ কী?
- খ)(2)
ইভটিজিং কীভাবে শিক্ষার উপর প্রভাব ফেলছে।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুহানের পরিবারের দুর্দশার পেছনে কোন কারণ দায়ী? তোমার পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা নিরসনে নাগরিক সমাজের করণীয় আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক প্রশাসনিক সুবিধার্থে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে দুটি নতুন প্রদেশ গঠন করার ঘটনাকে বঙ্গভঙ্গ বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইভটিজিং বা যৌন হয়রানি নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথে কিংবা শ্রেণিকক্ষে উত্ত্যক্তের শিকার হওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক ট্রমার শিকার হয় এবং পড়াশোনায় মনোযোগ হারাতে বাধ্য হয়। এর ফলে ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি হ্রাস পায়, অনেকেই মাঝপথে পড়ালেখা বন্ধ করে দেয় এবং পরিবার সামাজিক নিরাপত্তার শঙ্কায় অপ্রাপ্তবয়সে তাদের বিয়ে (বাল্যবিয়ে) দিয়ে দেয়, যা সামগ্রিক নারীশিক্ষার প্রসারকে দারুণভাবে ব্যাহত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুহানের পরিবারের দুর্দশার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যা দায়ী।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। বিশেষ করে অপরিকল্পিত নদী ভরাট, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা সুহানের বাড়িঘর ডুবে যায়, তার পড়ালেখা ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায় এবং তার পরিবার সর্বস্বান্ত হয়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক প্রলয়ঙ্কারী বন্যার প্রত্যক্ষ প্রভাব, যা প্রান্তিক জনপদের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে চরম সংকটে ফেলে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস ও পুনর্বাসনে নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, দুর্যোগকালীন জরুরি মুহূর্তে নাগরিক সমাজের উচিত দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা চালানো, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ করা এবং পানিবন্দী মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। সুহানের মতো শিক্ষার্থীরা যাতে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো এগিয়ে আসতে পারে।
দ্বিতীয়ত, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ঘরবাড়ি সংস্কার এবং জীবিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজের তহবিল গঠন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদে বন্যা সমস্যা নিরসনে নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ ও জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাসে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নাগরিক সমাজকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
অতএব, ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রয়াস ও নাগরিক সমাজের কার্যকর তৎপরতার মাধ্যমেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্দশা লাঘব করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও