গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রতিভাবান শিশু কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে মূল ধারায় আনয়নে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে চিহ্নিত [?] স্থানে কোন শিশুকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিশুর আচরণ নিরাময়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব শিশুর বুদ্ধি সাধারণ বা স্বাভাবিক শিশুদের চেয়ে অনেক বেশি (সাধারণত বুদ্ধ্যঙ্ক বা IQ ১৩০ বা তার বেশি) এবং যারা কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন- জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা সৃজনশীল কাজে) অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে, তাদের প্রতিভাবান শিশু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শারীরিক, মানসিক কিংবা আচরণগত বিকাশের জন্য সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ হলো পরিবার। পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি, ভালোবাসা এবং নিয়মিত যত্ন শিশুর হীনমন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। পরিবারের ইতিবাচক মনোভাবই শিশুকে সমাজে মানিয়ে নিতে এবং শিক্ষার মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত হতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে। তাই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চিহ্নিত '?' স্থানে 'অটিস্টিক শিশু' (বা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু)-কে বোঝানো হয়েছে।

    অটিজম হলো শিশুর মস্তিষ্কের একটি স্নায়বিক বা বিকাশজনিত সমস্যা, যার ফলে শিশুর সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত লক্ষণগুলো—'অস্বাভাবিক দেহভঙ্গি', 'পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ' এবং 'অকারণে আক্রমণ বা আক্রমণাত্মক আচরণ'—অটিস্টিক শিশুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

    অটিস্টিক শিশুরা সাধারণত অন্যের সাথে সঠিকভাবে ভাববিনিময় করতে পারে না, কোনো নির্দিষ্ট আচরণ বারবার পুনরাবৃত্তি করে এবং অনেক সময় আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অকারণেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বা অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। উদ্দীপকের ত্রিমুখী লক্ষণগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় '?' চিহ্নিত শিশুটি নিঃসন্দেহে অটিস্টিক শিশু।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অটিস্টিক শিশুর আচরণগত সমস্যা সম্পূর্ণ দূর করা না গেলেও সঠিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় করা সম্ভব; তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

    অটিস্টিক শিশুরা সাধারণ পাঠদান পদ্ধতির মাধ্যমে সহজে শিখতে পারে না। তাদের জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং নিবিড় প্রশিক্ষণ:
    ১. বিশেষ শিক্ষাদান পদ্ধতি: ছবি, প্রতীক ও কাঠামোগত রুটিনের মাধ্যমে (TEACCH, PECS ইত্যাদি পদ্ধতি) তাদের যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ কমে এবং অস্বাভাবিক আচরণ হ্রাস পায়।
    ২. আচরণিক প্রশিক্ষণ (Applied Behavior Analysis - ABA): নিয়মিত ও সুনির্দিষ্ট আচরণিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পুনরাবৃত্তিমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণগুলো ধীরে ধীরে দূর করে ইতিবাচক আচরণের অভ্যাস গড়ে তোলা হয়।
    ৩. সংবেদনশীল ও পেশাগত থেরাপি (Occupational & Sensory Therapy): ইন্দ্রিয়গত অস্বাভাবিকতা ও অদ্ভুত দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সংবেদনশীল থেরাপি এবং দৈনন্দিন কাজের প্রশিক্ষণের ভূমিকা অপরিসীম।
    ৪. পরিবার ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিশুকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

    সুতরাং, উপযুক্ত শিক্ষাদান পদ্ধতি ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই একজন অটিস্টিক শিশুকে সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপযোগী করে তোলা সম্ভব। অতএব, উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন