মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: রিতার বয়স ৮ বছর। একটি বুদ্ধি অভীক্ষায়। সে ৯ বছর বয়স উপযোগী সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয় এবং ১০ বছর বয়স উপযোগী ৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়। 4 দৃশ্যকল্প-২
- ক)(1)
মানসিক বয়স কাকে বলে?
- খ)(2)
স্ট্যানফোর্ড বিনে বুদ্ধি অভীক্ষাকে ভাষাভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রিতার বুদ্ধ্যঙ্ক নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর 'গ' এবং 'ঘ' এর মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তির বুদ্ধির বিকাশ তার প্রকৃত বয়সের তুলনায় যে বয়সের সমতুল্য তাকে তার মানসিক বয়স (Mental Age বা MA) বলে। বুদ্ধির অভীক্ষায় কোনো ব্যক্তি যে বয়সের উপযোগী প্রশ্নসমূহের সঠিক সমাধান করতে পারে, সেটিই তার মানসিক বয়স।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ট্যানফোর্ড-বিনে বুদ্ধি অভীক্ষায় সমস্যা উপস্থাপনা ও তার সমাধান প্রধানত মৌখিক বা লিখিত ভাষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বলে একে ভাষাভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা বলা হয়।
এই অভীক্ষায় অভীক্ষার্থকে বিভিন্ন নির্দেশাবলী বুঝতে হয় এবং ভাষার সাহায্যে মৌখিক বা লিখিতভাবে প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে হয়। ভাষা ব্যবহারে পারদর্শী বা শিক্ষিত ব্যক্তিদের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের জন্যই এই অভীক্ষা বিশেষভাবে উপযোগী হওয়ায় একে ভাষাভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী,
রিতার প্রকৃত বয়স (Chronological Age বা CA) = ৮ বছর = (৮ × ১২) মাস = ৯৬ মাস।মানসিক বয়স (Mental Age বা MA) নির্ণয়:
রিতা ৯ বছর বয়স উপযোগী সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়। অতএব তার মূল বা ভিত্তি বয়স (Basal Age) = ৯ বছর = (৯ × ১২) মাস = ১০৮ মাস।
স্ট্যানফোর্ড-বিনে স্কেলে প্রতি বছরের অভীক্ষায় সাধারণত ৬টি করে প্রশ্ন থাকে এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ২ মাস করে মানসিক বয়স ধরা হয়।
রিতা ১০ বছর বয়স উপযোগী ৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়।
অতএব, অতিরিক্ত মানসিক বয়স = (৩ × ২) মাস = ৬ মাস।
সুতরাং, রিতার মোট মানসিক বয়স (MA) = ১০৮ মাস + ৬ মাস = ১১৪ মাস (বা ৯.৫ বছর)।আমরা জানি,
বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) = (মানসিক বয়স / প্রকৃত বয়স) × ১০০
= (১১৪ / ৯৬) × ১০০
= ১.১৮৭৫ × ১০০
= ১১৮.৭৫সুতরাং, রিতার বুদ্ধ্যঙ্ক হলো ১১৮.৭৫ (বা প্রায় ১১৯)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে বুদ্ধি পরিমাপক অভীক্ষার বিভিন্ন ধরন দেখানো হয়েছে। উপস্থাপনার ধরনের ভিত্তিতে অভীক্ষা দুই প্রকার: 'ভাষাগত' ও 'কর্মসম্পাদনী'। একইভাবে প্রয়োগ পদ্ধতির ভিত্তিতে বুদ্ধি অভীক্ষা দুই প্রকার, যা উদ্দীপকে 'গ' ও 'ঘ' হিসেবে চিহ্নিত। এখানে 'গ' হলো 'ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষা' (Individual Test) এবং 'ঘ' হলো 'দলগত অভীক্ষা' (Group Test)।
নিচে ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষা ('গ') ও দলগত অভীক্ষা ('ঘ') এর মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রয়োগ ক্ষেত্র: ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষা একই সময়ে মাত্র একজন ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করা যায়। অন্যদিকে দলগত অভীক্ষা একই সাথে বহুসংখ্যক ব্যক্তির ওপর একসাথে প্রয়োগ করা সম্ভব।
২. সময় ও শ্রম: ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষা পরিচালনায় প্রচুর সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়, কারণ প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে পরীক্ষা নিতে হয়। দলগত অভীক্ষায় স্বল্প সময়ে ও পরিশ্রমে অনেকের বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
৩. অভীক্ষকের ভূমিকা ও দক্ষতা: ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষায় অভীক্ষকের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উচ্চ দক্ষতার প্রয়োজন হয়, যাতে তিনি অভীক্ষার্থীর আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিন্তু দলগত অভীক্ষায় অভীক্ষকের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সহজ ও সাধারণ নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
৪. অভীক্ষার্থীর সহযোগিতা ও সম্পর্ক: ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষায় অভীক্ষক ও অভীক্ষার্থীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক (Rapport) গড়ে তোলা সম্ভব হয়, ফলে ব্যক্তির ভয় বা দ্বিধা দূর হয়। দলগত অভীক্ষায় এমন ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব হয় না।
৫. উদ্দেশ্য ও উপযোগিতা: ক্লিনিক্যাল ক্ষেত্র, মানসিক রোগী বা বিশেষ শিশুদের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যক্তিভিত্তিক অভীক্ষা অধিক উপযোগী। অন্যদিকে সেনাবাহিনীতে জনবল নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানে কর্মী নির্বাচন বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মতো গণ-বাছাই প্রক্রিয়ায় দলগত অভীক্ষা অধিক কার্যকর।
পরিশেষে বলা যায়, দুটি অভীক্ষাই বুদ্ধি পরিমাপে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের প্রয়োগের ক্ষেত্র ও কার্যপ্রণালীতে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও