পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি সংগঠিত জাতি। তাদের মধ্যে জাতীয়তার বেশিরভাগ উপাদানের মিল রয়েছে। তারা স্বাধীনতার পর চার দশকের বেশি সময় অতিক্রম করেছে কিন্তু উন্নতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারেনি। সুশীল সমাজ লাগামহীন দুর্নীতি ও দেশপ্রেমহীনতাকেই এর জন্য দায়ী করেছেন। এ জাতির বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীই ব্যক্তিগত স্বার্থ অন্বেষণে ব্যস্ত। ফলে এখনো বৃহৎ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতায় নিমজ্জিত।
- ক)(1)
গ্রিক শব্দ 'Demos' অর্থ কী?
- খ)(2)
আইন মেনে চলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে দেশপ্রেম ও জাতীয়তার সম্পর্ক আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সুশীল সমাজের বক্তব্যকে তুমি কি যথার্থ বলে মনে কর? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিক শব্দ 'Demos' (ডেমোস) অর্থ 'জনগণ' বা 'জনসাধারণ' (people)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আইন মেনে চলা হয়।
আইন মান্য করার মাধ্যমেই সমাজে অরাজকতা দূর হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ শাস্তির ভয়ে এবং নাগরিক দায়িত্ব ও নৈতিকতাবোধ থেকে আইন মেনে চলে। আইন না মানলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দেশপ্রেম ও জাতীয়তার গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের চিত্র ফুটে উঠেছে।
জাতীয়তা হলো মূলত একটি মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি, যা একদল জনসমষ্টিকে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূত্রে একাত্ম করে তোলে। অন্যদিকে দেশপ্রেম হলো স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার আন্তরিক অনুভূতি। জাতীয়তাবোধের ভিত্তি সুদৃঢ় হয় নাগরিকদের গভীর দেশপ্রেমের মাধ্যমে।
উদ্দীপকের 'ক' জাতির মধ্যে জাতীয়তার উপাদান থাকা সত্ত্বেও নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব পরিলক্ষিত হয়। দেশপ্রেম না থাকলে কেবল জাতীয়তার সাধারণ উপাদান দিয়ে জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না। দেশপ্রেম নাগরিকদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে প্রেরণা জোগায়। সুতরাং, দেশপ্রেম ও জাতীয়তা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত; দেশপ্রেমহীন জাতীয়তা কোনো জাতির টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে পারে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের সুশীল সমাজের বক্তব্যকে আমি যথার্থ বলে মনে করি।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর টেকসই অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন কার্যকর সুশাসন, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের দেশপ্রেম ও সততা। ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা এবং লাগামহীন দুর্নীতি যেকোনো জাতির সার্বিক অগ্রগতিকে স্থবির করে দেয়।
উদ্দীপকের 'ক' জাতি স্বাধীনতা অর্জনের চার দশক পেরিয়ে গেলেও লাগামহীন দুর্নীতি ও দেশপ্রেমহীনতার কারণে দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতায় নিমজ্জিত রয়েছে। সুশীল সমাজ যথার্থই চিহ্নিত করেছেন যে, এ জাতির নাগরিকরা সমষ্টিগত কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে মত্ত। দুর্নীতি রাষ্ট্রের সম্পদ বিনষ্ট করে, বৈষম্য বাড়ায় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করে। অন্যদিকে, দেশপ্রেমের ঘাটতির ফলে নাগরিকরা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলা করে। এ দুটি ব্যাধি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রধান প্রতিবন্ধক।
অতএব, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের মধ্যে প্রকৃত দেশপ্রেম জাগ্রত না হলে কোনো জাতির পক্ষেই উন্নতি সম্ভব নয়। তাই সুশীল সমাজের অভিমতটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও