পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জরিনা একজন ভিক্ষুক। তার কোনো থাকার জায়গা নেই। সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে কমলাপুর রেল স্টেশনে সে আশ্রয় নেয়। ভিক্ষা করে যা পায় অ দিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করে। তার চিকিৎসা ও বস্ত্রের কোনো নিশ্চয়তা নাই। দারিদ্র্যই তার পরম সঙ্গী।
- ক)(1)
মৌলিক অধিকার কী?
- খ)(2)
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত জরিনা কোন ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের জরিনার জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রের কী কী ভূমিকা পালন করা উচিত? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশের জন্য সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত অপরিহার্য সুযোগ-সুবিধাকে মৌলিক অধিকার বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি, যা কোনো জনসমাজকে অন্যদের থেকে পৃথক করে একতাবদ্ধ রাখে। অন্যদিকে, জাতি হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত এবং স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী একটি সুসংগঠিত জনসমাজ।
২. রাজনৈতিক সংগঠন: জাতীয়তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়; কেবল ঐক্যবোধ থাকলেই চলে। কিন্তু একটি জনসমাজ যখন জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজস্ব সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করে বা রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করে, তখনই তা জাতিতে পরিণত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত জরিনা নাগরিকের 'মৌলিক মানবিক অধিকার' তথা 'সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার' থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে একজন নাগরিকের বেঁচে থাকার জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হওয়া আবশ্যক। এগুলো নাগরিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্র তার প্রতিটি নাগরিকের জন্য এসব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জরিনা একজন গৃহহীন ভিক্ষুক। তার কোনো স্থায়ী বাসস্থান নেই, রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে তাকে আশ্রয় নিতে হয়। ভিক্ষা করে কোনোমতে দিন যাপন করায় তার পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া তার চিকিৎসা ও বস্ত্রের মতো অপরিহার্য অধিকার থেকেও সে বঞ্চিত। সুতরাং, জরিনা স্পষ্টতই জীবন ধারণের প্রাথমিক মৌলিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জরিনার মতো অসহায় নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে একটি আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বহুবিধ দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন করা উচিত। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারকরণ: রাষ্ট্রের উচিত জরিনাকে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা বা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা।
২. পুনর্বাসন ও বাসস্থান প্রদান: 'আশ্রয়ণ প্রকল্প' বা পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে জরিনার মতো ছিন্নমূল গৃহহীনদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
৩. বিনামূল্যে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা: জরিনার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অধীনে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং ওএমএস বা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
৪. কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন: জরিনাকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে তার সক্ষমতা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ঋণ বা কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত।পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যই হলো সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা ও বৈষম্য দূর করা। জরিনার মানবিক জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের এসব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও