ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
রসুলপুর একটি ঘনবসতি এলাকা। বর্তমানে এলাকায় প্রায় সময় বিভিন্ন অলিতে- গলিতে, রাস্তায় অহরহ ছিনতাই, পকেটমার, চাঁদাবাজি ইত্যাদি বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে ভয় পায়। এ ব্যাপারে জনাব আ. রহিম ও রফিক সাহেবের মধ্যে কথাবার্তার এক পর্যায়ে রফিক সাহেব বললেন, সমাজে ভালো কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা না থাকলে সামাজিক অবক্ষয় নেমে আসে।
- ক)(1)
কিযব' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
কুপ্রবৃত্তি দমন বড় জিহাদ।- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনায় সামাজিক অনাচারের কোন দিক প্রকাশ পেয়েছে? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রফিক সাহেবের উক্তিটির মাধ্যমে যা ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক কুরআন-হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'কিযব' (الكذب) শব্দের অর্থ হলো মিথ্যা বা অসত্য বলা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শয়তান ও নফসের দাসত্ব ত্যাগ করে নিজের কুপ্রবৃত্তি দমন করাই হলো বড় জিহাদ বা 'জিহাদে আকবর'।
ইসলামে জিহাদ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের অন্তর বা নফস সবসময় খারাপ ও নিষিদ্ধ কাজের দিকে প্রলুব্ধ করে। এই অভ্যন্তরীণ মন্দ কামনা-বাসনা ও কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত করা অত্যন্ত কঠিন এক সংগ্রাম। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে নফসের বিরুদ্ধে এই আত্মশুদ্ধিমূলক সংগ্রামকে বড় জিহাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রসুলপুর এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও চাঁদাবাজির ঘটনার মাধ্যমে সামাজিক অনাচারের 'নিরাপত্তাহীনতা ও সন্ত্রাসের' দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ ধরনের সামাজিক অনাচারের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো নিম্নরূপ:
১. জানমালের নিরাপত্তাহীনতা: সমাজ থেকে মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা বিনষ্ট হয়। ফলে মানুষ স্বাধীন ও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে না।
২. ভীতিকর পরিবেশ ও মানসিক অশান্তি: এলাকায় সর্বদা ভয়ভীতি ও শঙ্কা বিরাজ করে, যা সাধারণ মানুষের মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করে।
৩. অর্থনৈতিক বিপর্যয়: চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের কারণে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়।
৪. সামাজিক বন্ধন বিনষ্ট: মানুষে মানুষে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য নষ্ট হয়ে সমাজে অবিশ্বাস ও বিশৃঙ্খলা স্থায়ী রূপ নেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রফিক সাহেবের উক্তিটির মাধ্যমে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান 'আমর বিল মা'রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার' অর্থাৎ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর বিশ্লেষণ:
১. কুরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেছেন, "তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎ কাজে বাধা দেবে" (সূরা আলে ইমরান: ১১০)। অতএব, সমাজকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সৎকাজের প্রসার ও অসৎকাজের মূলোৎপাটন অপরিহার্য।
২. হাদিসের নির্দেশনা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখলে সে যেন তা হাত দ্বারা (শক্তি প্রয়োগে) প্রতিরোধ করে; সম্ভব না হলে মুখ দিয়ে (নসীহত করে) বাধা দেয়; তাও সম্ভব না হলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে, আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর" (সহিহ মুসলিম)।
৩. দায় এড়িয়ে চলার পরিণতি: যদি কোনো সমাজ সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয় এবং সৎকাজে উৎসাহ না দেয়, তবে সেখানে নৈতিক ও সামাজিক চরম অবক্ষয় নেমে আসে। এমনকি সামষ্টিক শাস্তি বা আজাব অবতীর্ণ হতে পারে।সুতরাং, সমাজে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অনাচার প্রতিরোধে রফিক সাহেবের উক্তি অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের প্রতিরোধ গড়ে তোলাই একমাত্র সমাধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও