বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
সতীদাহ প্রথা কী?
- খ)(2)
বাংলাকে বুলগাকপুর বলা হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি মধ্যযুগের কোন স্থাপত্যশিল্প? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'এই ধরনের স্থাপত্যশিল্প এ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে'- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের এমন একটি কুপ্রথা, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো।
- খ)
বুলগাকপুর শব্দের অর্থ বিদ্রোহের নগরী। দিল্লির সুলতানদের আমলে বাংলার শাসকরা বারবার কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা ঘোষণা করতেন। বাংলা দিল্লি থেকে দূরে এবং নদীনালা-জঙ্গলে পূর্ণ হওয়ায় একে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন ছিল। এ কারণে বাংলাকে বুলগাকপুর বলা হতো।
- গ)
উদ্দীপকের চিত্রটি মধ্যযুগের মুঘল আমলের স্থাপত্যশিল্প লালবাগের কেল্লার প্রতিচ্ছবি।
ছবিতে দুই পাশে দেয়ালঘেরা একটি সোজা পথ ও পথের শেষে তোরণসদৃশ ভবন দেখা যাচ্ছে, যা ঢাকার লালবাগ কেল্লার বৈশিষ্ট্য বহন করে। এটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যযুগের মুঘল স্থাপত্যের অন্তর্ভুক্ত।
বর্ণনা: লালবাগের কেল্লা ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এর নির্মাণকাজ শায়েস্তা খানের শাসনকালের পূর্বেই শুরু হয়েছিল। তিনি এটি শেষ করার পদক্ষেপ নেন এবং ১৬৯০ সালে ইব্রাহিম খানের শাসনকালে নির্মাণ সমাপ্ত হয়। এই দুর্গের ভেতরে রয়েছে শায়েস্তা খানের কন্যা পরিবিবির মাজার। মার্বেল পাথরে নির্মিত এ সমাধিভবনটিকে এদেশের সবচেয়ে সুন্দর মুসলিম স্মৃতিসৌধ বলে গণ্য করা হয়। এ ছাড়া এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ইমারতের মধ্যে রয়েছে মসজিদ ও দরবার ভবন। আজও এটি শায়েস্তা খানের শাসনকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
সুতরাং উদ্দীপকের চিত্রটি মুঘল আমলের স্থাপত্যকীর্তি লালবাগের কেল্লা।
- ঘ)
মধ্যযুগের স্থাপত্যশিল্প বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে— উক্তিটি যথার্থ।
১. সুলতানি ও মুঘল আমলের মসজিদ, সমাধিসৌধ ও দুর্গ, যেমন আদিনা মসজিদ, ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং লালবাগ কেল্লা, তৎকালীন শিল্পরুচি ও প্রযুক্তিজ্ঞানের পরিচয় বহন করে।
২. এসব স্থাপনা থেকে সে সময়ের শাসনব্যবস্থা, ধর্মীয় জীবন ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। তাই এগুলো ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
৩. এগুলো দেশীয় ও বহিরাগত স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বাংলার নিজস্ব স্থাপত্যধারার প্রতিফলন।
৪. আজও এসব স্থাপনা পর্যটন ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।সুতরাং, মধ্যযুগের স্থাপত্যশিল্প আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও