কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষি শিক্ষক ছাত্রদের নিয়ে একটি দুগ্ধ খামার পরিদর্শনে গেলেন। সেখানে গিয়ে গরুর জাত ও দুধদোহন প্রক্রিয়াসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে ছাত্রদের অবহিত করলেন এবং খামারে অধিক দুধ উৎপাদন ও অতিরিক্ত দুধ কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় তা ছাত্রদের জানালেন।
- ক)(1)
দুগ্ধ খামার কী?
- খ)(2)
পশুর জন্য কাঁচা ঘাস প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
খামারে অধিক দুধ উৎপাদনের উপায় উদ্দীপকের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
খামারে উৎপাদিত অতিরিক্ত দুধ কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাণিজ্যিকভাবে দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে দুগ্ধবতী গাভী লালন-পালন ও ব্যবস্থাপনার স্থানকে দুগ্ধ খামার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাঁচা ঘাস অত্যাবশ্যকীয়। কাঁচা ঘাসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন (বিশেষ করে ভিটামিন-এ), খনিজ লবণ, পানি ও সহজপাচ্য আঁশ থাকে, যা পশুর হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দুধের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুগ্ধ খামারে অধিক দুধ উৎপাদনের প্রধান উপায়গুলো হলো: ১. উন্নত জাত নির্বাচন: দেশি জাতের পরিবর্তে উচ্চ উৎপাদনশীল সংকর বা উন্নত জাতের (যেমন- হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান, জার্সি বা শাহিওয়াল) গাভী নির্বাচন করতে হবে। ২. সুষম খাদ্য সরবরাহ: গাভীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে উন্নত মানের কাঁচা ঘাস (যেমন- নেপিয়ার, পারা), সাইলেজ এবং সুষম দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। ৩. সঠিক দুধদোহন পদ্ধতি: নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও শান্ত পরিবেশে সম্পূর্ণ হাত দিয়ে বা সঠিক আধুনিক দোহন প্রক্রিয়ায় অল্প সময়ে (৫-৭ মিনিটের মধ্যে) দুধ দোহন করতে হবে। ৪. বাসস্থান ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা: খামারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত আরামদায়ক বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত কৃমিনাশক ও প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করতে হবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খামারে উৎপাদিত অতিরিক্ত দুধ বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ ও রূপান্তর করা যায়: ১. পাস্তুরায়ন বা ফুটিয়ে সংরক্ষণ: দুধকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (যেমন- ৬৩° সেলসিয়াসে ৩০ মিনিট বা ৭২° সেলসিয়াসে ১৫ সেকেন্ড) উত্তপ্ত করে দ্রুত ঠাণ্ডা করার মাধ্যমে রোগজীবাণু ধ্বংস করে স্বল্প সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা যায়। ২. শীতলীকরণ (Chilling): দুধ দোহনের পর তা দ্রুত ৪° সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় রেফ্রিজারেটর বা চিলিং সেন্টারে রেখে ব্যাকেরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকিয়ে বেশ কয়েকদিন সংরক্ষণ করা যায়। ৩. প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত দ্রব্যে রূপান্তর: অতিরিক্ত দুধ নষ্ট হওয়া রোধ করতে তা দিয়ে মিষ্টি, দই, ছানা, পনির, মাখন, ঘি প্রভৃতি উপাদেয় খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে দীর্ঘসময় সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা যায়। ৪. গুঁড়ো দুধ বা কনডেন্সড মিল্ক প্রস্তুত: বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দুধ থেকে পানি বাষ্পীভূত করে গুঁড়ো দুধে রূপান্তর করলে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও