সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    নবোপলীয় বিপ্লব কী?

    (1)
  2. খ)

    চাকার আবিষ্কার সভ্যতা বিকাশের ভিত্তি - বুঝিয়ে বল।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছকে বাংলাদেশের কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে উক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সমূহের গুরুত্ব অনস্বীকার্য - বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নব্যপ্রস্তর যুগে কৃষিভিত্তিক স্থায়ী জীবনযাত্রার সূচনা ও মানুষের সার্বিক জীবনপ্রণালিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে প্রত্নতাত্ত্বিক ভি. গর্ডন চাইল্ড 'নবোপলীয় বিপ্লব' (Neolithic Revolution) বলে অভিহিত করেছেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাকার আবিষ্কার মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। চাকা আবিষ্কারের পূর্বে মানুষকে ভারী বোঝা নিজের কাঁধে বহন করতে হতো অথবা টেনে নিয়ে যেতে হতো, যা ছিল কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। চাকার আবিষ্কারের ফলে যানবাহন তৈরি সহজ হয়, যার মাধ্যমে ভারী মালামাল দ্রুত ও সহজে পরিবহন সম্ভব হয়। এছাড়া মৃৎশিল্পের বিকাশ, কৃষি ও বাণিজ্যের প্রসার এবং পরবর্তীকালে আধুনিক যন্ত্রচালিত শিল্পব্যবস্থার ভিত্তি রচিত হয় চাকার ধারণার ওপর। এজন্য চাকার আবিষ্কারকে সভ্যতা বিকাশের মূল ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান 'পাহাড়পুর' বা 'সোমপুর মহাবিহার'-এর ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত 'গন্ধেশ্বরীর মন্দির', পণ্ডিত 'অতীশ দীপঙ্কর', 'সত্যপীর ভিটা', 'তাম্র ও শিলালিপি' এবং 'সোমপুর বিহার'—এই উপাদানগুলো সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অষ্টম শতকের শেষভাগে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল এই বিশাল সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান দীর্ঘদিন এই বিহারে বসবাস ও শিক্ষকতা করেছিলেন। এছাড়া প্রধান বিহারের কাছাকাছি অবস্থিত সত্যপীরের ভিটা ও গন্ধেশ্বরীর মন্দির এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খননকার্যের ফলে এখানে প্রাপ্ত তাম্রশাসন ও শিলালিপি থেকে পাল আমলের ইতিহাস জানা যায়। অতএব, উদ্দীপকের ছকটি সুস্পষ্টভাবে পাহাড়পুর বা সোমপুর মহাবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারসহ প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামো জানতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে—উক্তিটি যথার্থ ও অনস্বীকার্য।

    সোমপুর বিহার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার, যা ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষিত হয়। এই নিদর্শনের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
    ১. রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস: এখানে প্রাপ্ত রাজা ধর্মপালের তাম্রশাসন ও বিভিন্ন শিলালিপি থেকে পাল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা, তাঁদের রাজ্যজয় ও সমকালীন রাজনৈতিক সীমানা সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া যায়।
    ২. ধর্মীয় ও শিক্ষা সংস্কৃতি: এই বিহার ছিল সমকালীন এশিয়ার অন্যতম প্রধান জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র। বিখ্যাত অতীশ দীপঙ্করের মতো বৌদ্ধ পণ্ডিতদের অবস্থান প্রমাণ করে এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। সত্যপীর ভিটা এবং গন্ধেশ্বরীর মন্দির প্রমাণ করে সমাজে বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির পারস্পরিক সহাবস্থান ও সমন্বয় ছিল।
    ৩. স্থাপত্য ও শিল্পকলা: বিহারের পোড়ামাটির ফলকচিত্র (টেরাকোটা), স্থাপত্যকলা এবং ভাস্কর্য তখনকার বাঙালি সমাজের লোকায়ত জীবন, পোশাক-পরিচ্ছদ, পশুপাখি এবং উন্নত নান্দনিক বোধের পরিচয় দেয়।
    ৪. সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা: এই সুবিশাল স্থাপনা এবং প্রাপ্ত মুদ্রা ও তৈজসপত্র সমকালীন সমৃদ্ধ অর্থনীতি, বাণিজ্য ও উন্নত সামাজিক জীবনের সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।

    সুতরাং, বাংলাদেশের প্রাচীন সমাজব্যবস্থা, উন্নত সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক শিকড়কে সঠিকভাবে অনুধাবনের ক্ষেত্রে পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন