ভূগোল ২য় পত্র • খনিজ ও শক্তি সম্পদ • Combined Board • ঢাকা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
খনিজ কাকে বলে?
- খ)(2)
শিল্পায়নের ক্ষেত্রে খনিজ সম্পদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত '২' এ ইঙ্গিতকৃত খনিজটি বাংলাদেশের সাপেক্ষে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত '১'এ ইঙ্গিতকৃতখনিজ সম্পদটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক বা একাধিক মৌলিক পদার্থ মিলে প্রাকৃতিকভাবে গঠিত নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যযুক্ত অজৈব পদার্থকে খনিজ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি ও কাঁচামাল, যা খনিজ সম্পদ সরবরাহ করে। লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি খনিজ পদার্থ সরাসরি বিভিন্ন ভারী ও হালকা শিল্পের মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেল বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কলকারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখার প্রয়োজনীয় জ্বালানি জোগায়। তাই খনিজ সম্পদ ছাড়া আধুনিক শিল্পের বিকাশ ও সম্প্রসারণ অসম্ভব, যার কারণে শিল্পায়নে খনিজ সম্পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের '২' নং এ নির্দেশিত কালো রঙের জীবাশ্ম থেকে উৎপন্ন খনিজটি হলো কয়লা।
বাংলাদেশের সাপেক্ষে কয়লার বিবরণ নিম্নরূপ:
বাংলাদেশে উন্নতমানের বিটুমিনাস ও সাব-বিটুমিনাস কয়লার উল্লেখযোগ্য মজুদ রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে মূলত কয়লা ক্ষেত্রগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দিঘীপাড়া, রংপুরের খালাশপীর এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ উল্লেখযোগ্য।দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত এ কয়লা প্রধানত পাশেই অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ইটভাটা এবং অন্যান্য স্থানীয় শিল্পেও এ কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে দেশের বৃহত্তম কয়লা ক্ষেত্রটি অবস্থিত হলেও তা অনেক গভীরে থাকায় উত্তোলন বেশ ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের কয়লা সাধারণত উচ্চ তাপনক্ষমতাসম্পন্ন এবং এতে সালফারের পরিমাণ কম থাকে, যা পরিবেশের জন্য অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর। তবে কারিগরি দক্ষতা ও উন্নত প্রযুক্তির অভাবে অন্যান্য খনিগুলো থেকে পূর্ণমাত্রায় উত্তোলন এখনো সম্ভব হচ্ছে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের '১' নং এ নির্দেশিত বায়বীয় মিথেনসমৃদ্ধ খনিজ সম্পদটি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এ প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বিদ্যুৎ উৎপাদন: বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি সিংহভাগ আসে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে। ফলে জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গ্যাস অপরিহার্য।
২. শিল্প ও কলকারখানায় জ্বালানি: দেশের টেক্সটাইল, সিরামিক, রি-রোলিং মিল ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্পে প্রধান জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
৩. সার উৎপাদন: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের জন্য ইউরিয়া সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক গ্যাসকে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের সার কারখানাগুলো ইউরিয়া সার উৎপাদন করে।
৪. গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক ব্যবহার: শহর ও উপশহরে রান্নার কাজে পাইপলাইনের গ্যাস এবং এলএনজি/এলপিজি প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৫. পরিবহন খাতে ব্যবহার: সিএনজি (CNG) হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস যানবাহন চালনায় ব্যবহৃত হওয়ায় তা পরিবেশ দূষণ রোধ ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক জ্বালানি শক্তি। দেশের শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন এবং আধুনিক জীবনযাত্রার গতি ধরে রাখতে এ খনিজ সম্পদটির অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও