কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
মৎসা প্রক্রিয়াজাতকরণ কী?
- খ)(2)
ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার উপায় কী?
- গ)(3)
চিত্র-ক এবং চিত্র-খ এর সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্র-ক এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ আহরণের পর থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো বা দীর্ঘকাল সংরক্ষণের উপযোগী করে রাখার জন্য ধৌতকরণ, বাছাই, গ্রেডিং, হিমায়িতকরণ বা ক্যানিংসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াকে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার প্রধান উপায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. স্বাভাবিক মাছের আঁশটে গন্ধ থাকে না বা ফরমালিনের রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যায়।
২. মাছের ফুলকা বা কানকো উজ্জ্বল লাল বর্ণের পরিবর্তে কালচে, বিবর্ণ বা খয়েরি রঙের হয়।
৩. মাছের চোখ ভেতরের দিকে দেবে যায় বা ঘোলাটে হয়ে যায়।
৪. ফরমালিনযুক্ত মাছে সহজে মাছি বসে না এবং মাছের শরীর শক্ত ও অসাড় থাকে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-ক হলো 'গলদা চিংড়ি' এবং চিত্র-খ হলো 'বাগদা চিংড়ি'। নিচে এদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হলো:
সাদৃশ্য:
১. উভয়ই ক্রাস্টাশিয়া (Crustacea) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী জলজ প্রাণী।
২. উভয়ের শরীর শিরোবক্ষ (Cephalothorax) এবং উদর (Abdomen) অংশে বিভক্ত এবং শক্ত কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত।
৩. দুটিই সুস্বাদু খাদ্য এবং এদের রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।বৈসাদৃশ্য:
১. গলদা চিংড়ি প্রধানত স্বাদুপানি বা মিষ্টি পানিতে বাস করে ও চাষ করা হয়; পক্ষান্তরে, বাগদা চিংড়ি প্রধানত আধা-লোনা পানি বা লোনা পানির চিংড়ি।
২. গলদা চিংড়ির দ্বিতীয় জোড়া পায়ের নখ বা চিমটা (Chela) অনেক বড়, মোটা ও নীলচে রঙের হয়; বাগদা চিংড়িতে প্রথম তিন জোড়া পা চিমটাযুক্ত হলেও কোনো পা অতিরিক্ত বড় বা দীর্ঘ হয় না।
৩. গলদা চিংড়ির গায়ের রং সাধারণত সবুজাভ-ধূসর; অন্যদিকে বাগদা চিংড়ির গায়ে বাঘের মতো কালচে ডোরাকাটা দাগ থাকে।
৪. গলদা চিংড়ির রোস্ট্রাম বেশ লম্বা ও বাঁকানো, কিন্তু বাগদা চিংড়ির রোস্ট্রাম তুলনামূলক সোজা থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-ক হলো স্বাদুপানির 'গলদা চিংড়ি'। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে গলদা চিংড়ি চাষের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ: বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় এবং বিস্তীর্ণ প্লাবনভূমি গলদা চিংড়ি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অনুকূল জলবায়ু ও মিষ্টি পানির সহজলভ্যতার কারণে দেশের যেকোনো অঞ্চলে এর চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব।
২. মিশ্র চাষের সুযোগ: আমাদের দেশে রুই জাতীয় মাছ ও ধানক্ষেতে সমন্বিতভাবে গলদা চিংড়ি চাষ করা যায়। এতে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বাড়তি মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
৩. হ্যাচারি ও পোনা উৎপাদন: দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গলদা চিংড়ির আধুনিক হ্যাচারি গড়ে ওঠায় কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন: গলদা চিংড়ি চাষ, পরিচর্যা, পরিবহন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক।
৫. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে গলদা চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গুণগত মান রক্ষা করে এটি বিদেশে রপ্তানি করার মাধ্যমে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।অতএব, আধুনিক চাষ পদ্ধতি, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গলদা চিংড়ি চাষ বাংলাদেশের নীল অর্থনীতি (Blue Economy) তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বিরাট সম্ভাবনাময় খাত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও