সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
7.1.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও একজন তরুণের মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
7.2.
অথবা, প্রদত্ত সংকেত অবলম্বনে 'ধৈর্যের ফল' শিরোনামে একটি খুদেগল্প লেখো।
গল্প সংকেত: ধৈর্যধারণ করলে যেকোনো বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭.১. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও একজন তরুণের মধ্যে সংলাপ:
তরুণ (আসিফ): স্লামালাইকুম, দাদু। কেমন আছেন?
মুক্তিযোদ্ধা (রহিম সাহেব): ওয়ালাইকুমুস সালাম, আসিফ। ভালো আছি ভাই। তুমি কেমন আছো?
আসিফ: ভালো, দাদু। আসলে আজ আপনার কাছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানতে এসেছি। আপনারা কীভাবে সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করেছিলেন?
রহিম সাহেব: সে এক অভূতপূর্ব দিন ছিল, আসিফ! বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। ২৫শে মার্চের কালরাতে যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর পাকিস্তানি সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ল, তখন দেশকে মুক্ত করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ ছিল না।
আসিফ: দাদু, আপনারা তখন ট্রেনিং নিয়েছিলেন কোথায়? কোনো ভয় কাজ করেনি মনে?
রহিম সাহেব: ভয়কে আমরা জয় করেছিলাম দেশের টানে। আমরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের ক্যাম্পে গেরিলা ট্রেনিং নিয়েছিলাম। খাদ্য ও অস্ত্র সংকটের মধ্যেও বুকে ছিল অদম্য সাহস আর এক সাগর দেশপ্রেম। পাক হানাদার আর তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে আমরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তাম।
আসিফ: নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মুহূর্তটি কেমন ছিল?
রহিম সাহেব: ১৬ই ডিসেম্বর যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করল, সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়! লাখো শহীদের রক্ত আর মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম আমাদের স্বাধীন স্বদেশ—লাল-সবুজের পতাকা।
আসিফ: আপনাদের এই বীরত্বগাথা আমাদের প্রেরণা জোগায়, দাদু। আমরা তরুণ প্রজন্ম আপনাদের রক্তে কেনা এই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাব—এই আমাদের অঙ্গীকার।
রহিম সাহেব: তোমাদের প্রতিই আমাদের প্রত্যাশা অনেক, আসিফ। সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে যাও, তবেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সার্থক হবে।
অথবা, ৭.২. খুদেগল্প:
ধৈর্যের ফল
গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুজন। বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। অর্থাভাব নিত্যদিনের সঙ্গী হলেও সুজনের চোখে ছিল বড় হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মাত্র দুই মাস আগে সুজনের বাবার হঠাৎ এক সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায়। পরিবারের আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঘরবাড়ি বিক্রি হওয়ার উপক্রম হয়।
সুজনের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হলো। আত্মীয়-স্বজন অনেকে তাকে পড়ালেখা ছেড়ে কাজে নেমে পড়ার পরামর্শ দিল। এমনকি সুজনের বন্ধুরাও ভেবেছিল সে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে না। কিন্তু সুজন কোনো অবস্থাতেই ধৈর্য হারায়নি। সে চরম মানসিক সংকটের মধ্যেও নিজেকে স্থির রাখে। ভোরে মানুষের জমিতে সামান্য মজুরিতে কাজ করত এবং রাতে কেরোসিনের কুপি জ্বালিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করত। শত অভাব, অনিশ্চয়তা আর উপহাসের মাঝেও সে স্রষ্টার ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করে।
অবশেষে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে সুজন তার কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল। পরবর্তীতে তার এই অদম্য ধৈর্য ও মেধার কারণে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে সে উচ্চশিক্ষার পূর্ণ বৃত্তি লাভ করে এবং তার বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। সুজন প্রমাণ করল, জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতিতেও যদি কেউ অটল ধৈর্যধারণ করে এগিয়ে যায়, তবে যেকোনো বাধা অতিক্রম করে বিজয় অর্জন সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও