গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বিনা ও রিনা দুই বান্ধবী। বিয়ের অনুষ্ঠানে পরার জন্য স্বনামধন্য বিপণী বিতানে শাড়ি কিনতে গেল। সেখানে তারা দুজনে ভিন্ন ভিন্ন দুটি শাড়ি পছন্দ করল। তা দেখে বিক্রেতা বলল বিনার পছন্দকৃত শাড়ি মানে সবচেয়ে ভালো এবং এটি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। অন্যদিকে রিনার পছন্দকৃত শাড়িটির উপস্থিতি ছাড়া বিয়ের আসরে পূর্ণতা আসে না। মসলিনের উত্তরসূরি এ শাড়ি নারায়ণগঞ্জে প্রস্তুত করা হয়।
- ক)(1)
জামদানির কারিগররা অধিকাংশই কোন সম্প্রদায়ের ছিল?
- খ)(2)
“বেনারসি শাড়ির ঐতিহ্য অতিপ্রাচীন”-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিনার পছন্দকৃত শাড়িটির উৎপাদন কৌশল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রিনা যে শাড়িটি পছন্দ করেছিল সেটির প্রকৃতি নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জামদানির কারিগররা মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বেনারসি শাড়ির উৎপত্তি প্রাচীন ভারতের বারাণসী বা বেনারস শহরে। শত শত বছর ধরে ঐতিহ্যগতভাবে খাঁটি রেশম সুতা ও সোনা-রুপার জরির কাজে দক্ষ কারিগরদের নিপুণ বুননশৈলীতে এই শাড়ি তৈরি হয়ে আসছে। প্রাচীনকাল থেকেই আভিজাত্য, রাজকীয় সাজসজ্জা এবং বিশেষ করে উপমহাদেশের বিবাহ অনুষ্ঠানে এই শাড়ির ব্যবহার একটি অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য হিসেবে টিকে রয়েছে। তাই বলা হয় বেনারসি শাড়ির ঐতিহ্য অতিপ্রাচীন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বিনার পছন্দকৃত শাড়িটি হলো রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ‘রেশম’ বা ‘সিল্ক’ শাড়ি।
রেশম শাড়ির উৎপাদন কৌশল:
১. গুটি বা কোকুন চাষ: তুঁত গাছের পাতা খাইয়ে রেশম পোকা (Bombyx mori) প্রতিপালন করা হয়। পোকার লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তরল দিয়ে কোকুন বা গুটি তৈরি হয়।
২. সুতা নিষ্কাশন: কোকুনগুলোকে ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করে আঠালো পদার্থ দূর করা হয় এবং সতর্কতার সাথে অবিচ্ছিন্ন রেশম তন্তু বা সুতা টেনে বের করে চরকায় জড়ানো হয়।
৩. সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রঞ্জন: সুতাগুলোকে ধুয়ে, পাকিয়ে এবং পছন্দসই বিভিন্ন রঙে রঞ্জিত করা হয়।
৪. বয়ন: প্রক্রিয়াজাত উজ্জ্বল রেশমি সুতা দিয়ে তাঁতে নিপুণ দক্ষতায় ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সিল্ক শাড়ি বোনা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রিনার পছন্দকৃত শাড়িটি হলো ‘জামদানি শাড়ি’। বিক্রেতার ভাষ্যমতে এটি মসলিনের উত্তরসূরি এবং নারায়ণগঞ্জে প্রস্তুত করা হয়, যা জামদানির পরিচায়ক।
জামদানি শাড়ির প্রকৃতি নিম্নে নিরূপণ করা হলো:
১. ঐতিহাসিক ঐতিহ্য: জামদানি মূলত বিখ্যাত ঢাকাই মসলিনের এক অবিচ্ছেদ্য ধারা। সুপ্রাচীনকাল থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের আর্দ্র আবহাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও প্রভৃতি অঞ্চলে এটি তৈরি হয়ে আসছে।
২. বুনন পদ্ধতি: জামদানি বুননে কোনো লিখিত নকশা ব্যবহার করা হয় না। তাঁতিরা স্মৃতি ও কল্পনার সাহায্যে সূক্ষ্ম বাঁশের কাঠি বা তাকুর সাহায্যে প্রতিটি মোটিফ ফুটিয়ে তোলেন। এতে সুতি বা রেশম সুতার জমিনে অতিরিক্ত রঙিন বা সোনালি জরির সুতা দিয়ে নকশা তোলা হয়।
৩. হালকা ও আরামদায়ক: জামদানি শাড়ি অত্যন্ত মিহি, হালকা, বায়ু চলাচল উপযোগী এবং মার্জিত সৌন্দর্যের প্রতীক।
৪. জ্যামিতিক মোটিফ: এর নকশায় সাধারণত ফুল, লতাপাতা, ময়ূরপঙ্খী, তেরছা, পান্না হাজার ইত্যাদি বৈচিত্র্যময় জ্যামিতিক অবয়ব ফুটে ওঠে।অতএব, রিনার পছন্দকৃত জামদানি শাড়িটি বাঙালি নারীর আভিজাত্য, ঐতিহ্য এবং হস্তশিল্পের অনন্য নিদর্শন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও