ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' দেশের কিছু বণিক ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য 'খ' দেশে আসে। তারা 'খ' দেশে বাণিজ্য করতে এসে সেখানে সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে। ফলে 'খ' দেশে বাণিজ্য করতে আসা অন্য বণিকদের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত থাকে। এক পর্যায়ে তারা 'খ' দেশের জনগণের ওপর নির্যাতন, লুণ্ঠন ও জোরপূর্বক মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি করতে থাকলে দেশীয় রাজা তাদের উপর রুষ্ট হন। ফলে তারা ঐ দেশ হতে বিতাড়িত হয়।
- ক)(1)
ভাস্কো-দা-গামা কত সালে ভারতবর্ষে আসেন?
- খ)(2)
ফরাসিদের বিফলতার একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'ক' দেশের বণিকদের মতো কোন দেশের বণিকেরা ভারতবর্ষে ব্যবসা করতে এসে সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে ঝুঁকে পড়ে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর উপমহাদেশে আসা বণিকদের কর্মকান্ড উক্ত বণিকদের কর্মকাণ্ডের মতই ছিল? তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে আসেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরাসিদের বিফলতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তাদের কোম্পানির ওপর ফরাসি সরকারের মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও অসহযোগিতা। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কিন্তু ফরাসি কোম্পানি ছিল সরকারের অধীনস্থ। ফলে জরুরি সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ফরাসি সেনাপতি বা বণিকরা সময়মতো স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত এবং ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ও সামরিক সহায়তা পেতেন না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' দেশের বণিকদের মতো পর্তুগিজ বণিকেরা ভারতবর্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে এসে পরবর্তীতে সাম্রাজ্য বিস্তার ও লুণ্ঠনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
পর্তুগিজরা ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে এলেও ক্রমশ তারা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে এবং দুর্গ নির্মাণ ও সামরিক আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। পরবর্তীতে তারা জলদস্যুতা, অপহরণ, দাস ব্যবসা এবং প্রজাদের ওপর ধর্মান্তরিতকরণসহ ব্যাপক নির্যাতন চালানো শুরু করে। তাদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও প্রজাপীড়নের কারণে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে ১৬৩২ সালে সুবাদার কাসিম খান পর্তুগিজদের হুগলি থেকে পরাজিত ও বিতাড়িত করেন। উদ্দীপকের বণিকদের অপকর্ম ও রাজা কর্তৃক বিতাড়িত হওয়ার সাথে ভারতবর্ষে পর্তুগিজদের কার্যক্রম ও পরিণতির সুস্পষ্ট মিল পাওয়া যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপমহাদেশে আগত সকল ইউরোপীয় বণিকের কর্মকাণ্ড হুবহু উদ্দীপকের বণিকদের মতো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসাত্মক বা একই পরিণতির ছিল না; তবে তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ও সাম্রাজ্যবাদী লিপ্সায় অনেক সাদৃশ্য ছিল।
উদ্দীপকের 'ক' দেশের বণিকরা নির্যাতন ও লুণ্ঠনের কারণে সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয়, যা মূলত পর্তুগিজদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য। পর্তুগিজরা জলদস্যুতা ও বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করায় দ্রুত জনবিচ্ছিন্ন ও পরাজিত হয়ে বিতাড়িত হয়েছিল। পক্ষান্তরে ইংরেজ বা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যদিও সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে কূটকৌশল, যুদ্ধবিগ্রহ এবং দেশীয় রাজন্যবর্গের পারস্পরিক দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়েছিল, তবুও তারা পর্তুগিজদের মতো কেবল প্রকাশ্যে দস্যুবৃত্তি করেনি। বরং তারা সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা ও ধূর্ত রাজনৈতিক কৌশলে প্রায় দুই শত বছর পুরো উপমহাদেশ শাসন করেছিল। অন্যদিকে ওলন্দাজ ও ফরাসিরা ইংরেজদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে না পেরে বাণিজ্যিক রণে ভঙ্গ দেয়।
অতএব, বাণিজ্য করতে এসে সাম্রাজ্য বিস্তারের মনোভাব এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধে জড়িয়ে পড়ার দিক থেকে উদ্দীপকের বণিকদের সাথে মিল থাকলেও, চূড়ান্ত পরিণতি ও টিকে থাকার কৌশলে উপমহাদেশে আগত সব বণিকের কর্মকাণ্ড একরকম ছিল না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও