‍ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯৩০ এর দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিরুদ্ধে ভারতে তিনটি ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করা হয়। এগুলো হল পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা ও কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা।

  1. ক)

    কে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মামলার সাথে তোমার পঠিত কোন মামলার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত মামলার পরিণতি কি হয়েছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী) বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অবরুদ্ধ বাংলাদেশের আপামর জনগণকে চরম উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার এবং দেশাত্মবোধক গান ও নাটক প্রচার করে বাঙালিদের মানসিক মনোবল বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি জোগান দেওয়া হতো। এটি মুক্তিযুদ্ধের 'দ্বিতীয় ফ্রন্ট' হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ভারতে রাজনৈতিক আন্দোলন দমন করতে ব্রিটিশদের দায়ের করা ষড়যন্ত্র মামলার সাথে আমার পঠিত 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য)-এর মিল রয়েছে।

    ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আইয়ুব খানের সামরিক সরকার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধিকারের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করে। অভিযোগ ছিল যে, তারা ভারতের আগরতলায় ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে মিলে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র করেছেন। উদ্দীপকে যেমন আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে পেশোয়ার, কানপুর ও মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেছিল, তেমনি পাকিস্তান সরকারও বাঙালির ন্যায্য অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে দমিয়ে রাখতে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত মামলা অর্থাৎ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পরিণতি পাকিস্তানি আইয়ুব সরকারের জন্য চরম আত্মঘাতী হয়েছিল এবং এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করেছিল।

    মামলার পরিণতিসমূহ পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি: মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই নৌবাহিনীর সদস্য সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা নিহত হলে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র আন্দোলন ও দাবানল জ্বলে ওঠে, যা '১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান'-এ রূপ নেয়।
    ২. মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তি: তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিঃশর্ত প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল অভিযুক্তকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
    ৩. 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি প্রদান: মুক্তির পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসমাবেশে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে।
    ৪. আইয়ুব খানের পতন: গণআন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১০ বছরের স্বৈরশাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
    ৫. স্বাধীনতার দ্বার উন্মোচন: এই মামলার মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ সুগম হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন