ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
চেঙ্গিস খান শুধু তার নিজস্ব বীরত্বে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি। দক্ষ সেনাপতির রণনিপুণতাই তার সাম্রাজ্যের উচতির প্রধান কারণ ছিল। তাছাড়া সাম্রাজ্য বিস্তার করেই তিনি ক্ষান্ত কামি। চেঙ্গিস খান তার বিশাল সাম্রাজ্যকে 'উত্তরাঞ্চল' ও 'দক্ষিণাঞ্চল' রথক দুটি প্রধান উইংয়ে বিভত্ত করে সেখানে দুইজন দক্ষ প্রতিনিধি। এংগে করেছিলেন। তারা দুজনই পরস্পর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রাজ্য ধন্তর করতেন। তবে এদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি মেঙ্গু খান ছলেন খুবই নৃশংস।
- ক)(1)
কুব্বাত-আস-সাখরা কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
সুলায়মানকে 'আশীর্বাদের চাবি' বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মেজা খানের সাথে খলিফা আল ওয়ালিদের শাসনামলের। কোন প্রাদেশিক গভর্নরের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের মতো খলিফা আল ওয়ালিদও মূলত। দক্ষ সেনাপতিদের কারণে সাম্রাজ্যের বিস্তৃতিতে সক্ষম। হয়েছিলেন- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কুব্বাত-আস-সাখরা ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের পর তাঁর ভাই সুলায়মান খলিফা হন। খলিফা সুলায়মান তাঁর সৎকর্ম, ধর্মপরায়ণতা এবং বিশেষ করে খিলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকার হিসেবে অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান ব্যক্তিত্ব হযরত উমর বিন আবদুল আজিজকে মনোনীত করার কারণে সমসাময়িক আলেম ও প্রজাদের কাছে 'মিফতাহুল খাইর' বা 'আশীর্বাদের চাবি' নামে অভিহিত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মেঙ্গু খানের (প্রশ্নে উল্লিখিত 'মেজা খান') নৃশংসতার সাথে খলিফা আল-ওয়ালিদের শাসনামলের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কঠোর ও নির্মম গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সাদৃশ্য রয়েছে।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন যেমন দক্ষ ও দৃঢ় প্রশাসক, তেমনি ছিলেন অত্যন্ত রক্তপিপাসু ও কঠোর স্বভাবের। উদ্দীপকে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি মেঙ্গু খানকে যেভাবে অত্যন্ত নৃশংস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি খিলাফতের শাসন টিকিয়ে রাখা ও বিদ্রোহ দমনে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর এই কঠোরতা ও নৃশংসতার কারণেই উদ্দীপকের চরিত্রের সাথে তাঁর গভীর সাদৃশ্য দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের মতোই খলিফা আল-ওয়ালিদ মূলত তাঁর দক্ষ সেনাপতিদের সামরিক রণকৌশল ও নেতৃত্বের কারণেই বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছিলেন—উক্তিটি যথার্থ।
আল-ওয়ালিদের খিলাফতকাল উমাইয়া সাম্রাজ্যের ইতিহাসে বিজয় ও সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ নামে পরিচিত। আল-ওয়ালিদ নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ লড়াই না করলেও তাঁর অধীনস্থ সেনাপতিদের যোগ্য নেতৃত্ব কাজে লাগিয়েছিলেন:
১. মুহাম্মদ বিন কাসিম: ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের স্থায়ী ভিত্তি স্থাপন করেন।
২. কুতায়বা বিন মুসলিম: মধ্য এশিয়ায় অভিযান চালিয়ে সমরকন্দ, বুখারা, খাওয়ারিজমসহ বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড উমাইয়া সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
৩. মুসা বিন নুসাইর ও তারিক বিন জিয়াদ: তাঁদের নেতৃত্বে উত্তর আফ্রিকা পেরিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে ঐতিহাসিক স্পেন (আন্দালুসিয়া) বিজয় সম্পন্ন হয়।অতএব, স্পষ্টতই চেঙ্গিস খানের মতো আল-ওয়ালিদের সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি মূলত তাঁর বীর ও দূরদর্শী সেনাপতিদের রণনিপুণতা ও কৃতিত্বের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও